গ্রাহকের চার কোটি আত্মসাতের দায়ে যমুনা এনজিওর দুই কর্মকর্তা অবরুদ্ধের নয় দিন

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১, ১:৪২ অপরাহ্ণ


শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা:


গ্রাহকের প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিবগঞ্জে যমুনা এনজিওর দুই কর্মকর্তা গত নয় দিন যাবত অবরুদ্ধ আছেন। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চাতরা নতুন বাজারে। তবে গ্রাহকরা বলছেন, কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি। বরং আমাদের টাকা ফেরত না দেয়ার কৌশল হিসাবে তারা নিজেরাই অফিসে থাকছেন। কোন পক্ষই থানায় বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো লিখিত অভিযোগ না করায় প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

সরেজমিনে অবরুদ্ধ এরিয়া ম্যানেজার কবির উদ্দিন ও হিসাব রক্ষক সেলিম রেজার সাথে কথা বলে জানা গেছে, যমুনা এনজিওর চাতরা শাখায় প্রায় পাঁচশ গ্রাহক রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় দুইশ জন এফডিআর গ্রাহক। তাদের টাকার সংখ্যা প্রায় তিন কোটি টাকা। ২৪% লাভ দিতে চেয়ে বিভিন্ন মেয়াদে টাকা নেয়া হয়েছে। বাকি প্রায় তিনশ জন সাধারণ গ্রাহক। তারা বলেন, তাদের পরিচালক মইন উদ্দিন বিভিন্ন সময় এ শাখার প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। প্রায় ছয় মাস থেকে যোাগাযোগ বি্িচ্ছন্ন রেখেছে। বাকি টাকা মাঠে ঋণ হিসাবে দেয়া আছে। করোনার কারণে ঋণের কিস্তি আদায় হয়নি। কবির ও সেলিম আরো জানান, পরিচালক এ শাখার টাকা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে জমি, বাড়ি ও মার্কেট কিনে তার স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করেছে বলে আমরা গোপন সূত্রে জানতে পেরেছি। করোনাকালে আমাদের বেতন ঠিকমত দেয়নি। বরং নানাভাবে হয়রানি করেছে। গত ১০ অক্টোবর মইন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে গ্রাহণের টাকা ফেরত দিতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু এখন আর ফোন ধরেন না। তাদের দাবী প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সৃদৃষ্টির মাধ্যমে টাকা ফেরতের ব্যবস্থার মাধ্যমে মুক্তি পেতে চাই।
অন্যদিকে গ্রাহকরা বলছেন, তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি। গ্রাহকের টাকা ফেরত দিবে না বলে গোপনে পরিচালক মইন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে তারা নিজেরাই অফিসের থেকে সময় ক্ষেপণ করছে। চাতরা এলাকার হাজেরা বেগম বেগম বলেন, আমি বিধবা মহিলা। লাভের আশায় আট লাখ টাকার এফডিআর করেছিলাম। লাভতো দূরের কথা পুঁজিটা পাচ্ছি না। অতিকষ্টে দিনাদিপাত করছি। একই কথা বললেন এলাকার বাসরী বেগম। তিনিও দুই লাখ টাকার এফডিআর করেছিলেন। অনেক দিন থেকে হয়রানির শিকার হচ্ছি। শুধু তারাই নয় এধরনের শতাধিক নারী পুরুষ অফিসের বাইরে অবস্থান নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ করেন। এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক হারুন অর রশিদ প্যাভেল জানান, এ শাখায় ২২ জন ভিক্ষুক, ৫০ জন ভ্যানওয়ালা ও একশ জন বিধবা ও শতাধিক কামলা টাকা জমা দিয়ে কান্নায় বুক ভাসাচ্ছে। কোনো প্রতিকার পায় না। তিনি আরো বলেন, তারা কৌশল করেই অফিসে থেকে জনগণকে দোষারোপ করছে। তিনি আরো বলেন, পরিচালকের সাথে তাদের যোগাযোগ ঠিকই আছে।

এ ব্যাপারে পরিচালক মইন সামাজিক ম্যাধ্যম ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে মিডিয়ার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার টাকা আমি দিব। মিডিয়ার মাথা ব্যথা কেন? তবে টাকা আত্মসাতের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি তোহিদুল আলম টিয়া বলেন, ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা এনজিওর পরিচালক মইন উদ্দিনের জন্য এটি একটি দুর্ঘটনা। বৃহত্তর জনস্বার্থে আমরা শিগগিরই এনজিও ফোরামের সভা ডেকে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো। শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে কোনো পক্ষই কোনো অভিযোগ করেন নি।

অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি অবরুদ্ধ নয়। উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, শুধু সমাজ সেবা থেইে অনুমোদন ন্য়েনি। তারা যুব উন্নয়ন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তর থেকেও অনুমোদন নিয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের সচেতন না হওয়ায় এ ঘটনার মূল কারণ। অভিযোগ পেলেই সঠিক তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।