গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি নিয়ে এরজিও পরিচালক উধাও

আপডেট: মে ২২, ২০২২, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


হায়রে আমাদের দূর্ভাগ্য যে লাভের আশায় এনজিওতে এফডিআর খুলে ৪ লাখ ৩০ হাজার জমা দিয়ে লাভতো দূরের কথা মূল টাকা চাইতে গিয়ে আমি সহ ৭ জন সাজানো নারী নির্যাতনের মামলায় দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি হচ্ছি।

কথাগুলো কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন, মনাকষা আনক কামিল মাদ্রাসার পিয়ন ও খড়িয়াল গ্রামের বাসিন্দা সাইফুদ্দিন। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে আমাদের ১৩০ জন এফডিআর গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় শাখা ব্যবস্থাপক সোহেলের সহযোগিতায় ডোভা (আগে দেশ নামে ছিল) এনজিও পরিচালক জাইরুল ইসলাম। এ টাকা চাইতে গেলে পরিচালক জাইরুলের সাথে আতাঁত করে সোহেল আমাদের ওপর পাল্টা মামলা করে হয়রানি করছে।

অন্য আসামিরা হলেন, আফতাব উদ্দিন মাস্টার, সামায়নতুল্লাহ, হাবিবুর রহমান,ফরজুন আলি, আলকেশ আলি,মিজানুর রহমান, মন্টু। গ্রাহক সাইফুদ্দিন জানান, ডোভায় আমি ৪ লাখ ৩০ হাজার লাখ প্রতি মাসিক ১৫ শ টাকা হরে এফডিআর করলে তারা প্রথম মাস লাভের টাকা আমাকে দিয়েছে। পরে তারা অফিস ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

শুধু সাইফুদ্দিনই নয়, এলাকার আব্দুর রশিদের স্ত্রী রেহেনা বেগমের ৫০ হাজার টাকা, পারচৌকা গ্রামের একরামের ছেলে গোলাবের ৬ লাখ টাকা, খড়িয়াল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে তোফিকুল ইসলামের ২লাখ ৮০ হাজার টাকা, মনাকষার গৌতম নাপিতের ৫ লাখ টাকা, পারচৌকা গ্রামের মালেকের স্ত্রীর ১১ লাখ টাকা সহ মোট ১৩০ জন এফডিআর গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে বলে তারা জানান।

তারা আরো জানান, প্রায় ৬শ সাধারণ গ্রাহকের ২০/২৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। তবে তাদের লোন ছাড়া আছে প্রায় ১৫০ জন সদস্যের কাছে প্রায় ৬৫ লাখ। যেগুলো তারা গোপনে আদায় করছে। ঘটনাটি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা বাজারের।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র জানায়, শুধূ মনাকষা নয়, ডোভার প্রায় ১৪টি শাখা মধ্যে বেশির ভাগ শাখা গুটিয়ে নিয়ে এভাবেই গ্রাহকের ২৫/৩০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে আছে। অন্যদিকে অফিসের জন্য ভাড়া দেয়া ঘরের মালিক মাহবুব আলম অফিস হিসাবে ভাড়া দেয়া ঘরের মালিক মাহবুব আলম জানান, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এ এনজিওটি পলাতক রয়েছে। তখন থেকে আমাকে ঘরের ভাড়া ও বিদ্যুৎবিল কিছুই দেয়নি। এমনকি অফিসও ছাড়েনি।

তিনি জানান, ২০১৭ সালে ১৮শ টাকা মাসিক ভাড়ার চুক্তিতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে অফিসের কাজ শুরু করে। ২০১৯ সালে আরো ১টি ঘর সহ মাসিক ৩৩শ টাকা ভাড়া চুক্তি করে ১লাখ টাকা জমানত দেয়।

বর্তমানে শাখা ব্যবস্থাপক সোহেলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। আমার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। তাই নিরুপায় হয়ে আমি ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে ১জন ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে তাদের মালামালগুলো অন্য ঘরে গুছিয়ে রেখে অন্য ১ জনকে ঘর দুটি ভাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ ব্যাপারে শাখা ব্যবস্থাপক সোহেল বলেন, আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। তাই আমার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন যে প্রথমে দেশ ও ডোভা নামে এনজিও পরিচলাক জাইরুল ইসলাম মনাকষা শাখার ১৩০ জন এফডিআর ও ৬শ জন সাধারণ গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিচালক জাইরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগকরার জন্য তার মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।