‘গ্রুপ রানারআপ হওয়াই আমাদের প্রথম লক্ষ্য’

আপডেট: মার্চ ৪, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



আজ শনিবার মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড-২ এর আসর। দেশের হকি ইতিহাসে যা সবচেয়ে বড় আয়োজন। আসরের প্রথম দিনেই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার পরিবর্তনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে লাল-সবুজের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি জানালেন টুর্নামেন্ট নিয়ে নিজেদের লক্ষ্য এবং পরিকল্পনার কথা। শুনিয়েছেন আশার কথাও।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কি ভাবছেন?
জিমি : মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভালো খেলাই আমাদের লক্ষ্য। আসলে গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ারই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভালো করতে পারলে আমরা মানষিকভাবে এগিয়ে থাকবো। টিমের মধ্যেও স্পিড থাকবে। বাকিটা নির্ভর করছে আমাদের পারফরমেন্সের উপর। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ি কতটুকু খেলতে পারবো সেটিই ফল নির্ধারণ করে দেবে।
ঘরের মাঠে এতো বড় একটা টুর্নামেন্ট। এখানে ভালো ফল করে কি হকির জনপ্রিয়তা বা জোয়ার ফেরানো সম্ভব?
জিমি : আমাদের সবারই লক্ষ্য আছে ভালো রেজাল্ট করার। সর্বশেষ হংকংয়ে এএইচএফ কাপে ভালো রেজাল্ট ছিল। বাংলাদেশে হকি খেলা অনেকেই দেখেন, খোঁজ খবর রাখেন। আশা করি ভালো কিছুই হবে। রেজাল্ট ভালো হলে সেটা দেশের জন্যই ভালো। সব সময় এক খেলোয়াড় তো সারাজীবন খেলে না। আমরা যদি এর মধ্য দিয়ে হকির ভবিষ্যত গড়ে দিতে পারি তবে পরবর্তিতে যারা খেলবে তারাও একটা আগ্রহ পাবে।
সামনে এশিয়া কাপের মতো আসর। তার আগে তো এটা ভালো প্রস্তুতির ক্ষেত্রও?
জিমি : আসলে এশিয়া কাপ এক ধরনের। ওয়ার্ল্ড হকি লিগ আরেক ধরনের। এই টুর্নামেন্টে পরফর্ম করে যদি আমরা পরের ধাপে কোয়ালিফাই করতে পারি তবে আমাদের হকির র‌্যাঙ্কিং বাড়বে। তখন অনেক ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার আমন্ত্রণ পাব। হকির চেহারাটা পুরোপুর পাল্টে যাবে।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের সুযোগ আসলে কতখানি?
জিমি : মালেয়শিয়া অনেক ভালো দল। তাদের পারফরমেন্স, টেকনিক সবকিছুই উন্নত। এক সময় আমরা তাদের সঙ্গে লড়াই করতাম। এখন দুই দলের মধ্যে বিস্তর ফারাক। এখন তারা একটা জায়গায় চলে গেছে। তাদের বিপক্ষে এখন আমদের নিজেদের যে শক্তি আছে সেটি দিয়ে খেলার চেষ্টা করবো।
২০০১ সালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি আছে বাংলাদেশের। এবার সেরকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
জিমি : যেটা বললাম,  শেষ চার-পাঁচ বছরে মালয়েশিয়া কিন্তু অনেক উন্নতি করেছে। পাকিস্তান, ভারতের  মতো দলও এখন তাদের বিপক্ষে হারের শঙ্কায় থাকে। ২০০৩ সালের পর থেকে ওদের হকি উপরের দিকে ওঠে গেছে। আমরা শুধু পিছিয়েছি। সেই হিসেবে ওদের দল অনেক শক্তিশালী। তবে আমরা আমাদের পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে ভালো কিছুই হবে।
মালয়েশিয়ান লিগে খেলার অভিজ্ঞতাও তো আছে আপনার। নিশ্চই সেটি এই টুর্নামেন্টে কাজে লাগবে?
জিমি : সেটা তো কাজে দেবেই। বিকেএসপিতে থাকার সময় অনূর্ধ্ব–১৬ দলের হয়ে এই দলের অধিনায়কের সঙ্গে খেলেছি। গত লিগেও তিনজন মালয়েশিয়ান উষা দলে খেলে গেছে। ওদের সম্পর্কে তাই আমাদের ভালো জানা শোনাই আছে। এখন নিজেদের পারফরম্যান্সের উপর সব নির্ভর করবে সব। আমরা যদি সহজেই হার মেনে যাই তাহলে প্রতিপক্ষ তো আমাদের হারাবেই। আর আমরা যদি মানসিক এবং শারীরিক ভাবে শক্ত থাকি তাহলে খেলায় অবশ্যই লড়াই হবে।
যে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন, সেখানে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনারা কতটা সন্তুষ্ট?
জিমি : প্রস্তুতি ম্যাচ তিনটি আমাদের জন্য অনেক জরুরী ছিল। যে ভুলগুলো ছিল সেগুলো আমরা ভিডিও সেশনে সমাধান করার চেষ্টা করেছি। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে যার ফল আমরা পেয়েছি। শেষ ম্যাচেও যে ভুলগুলো ছিল সেটির উপর শুক্রবার ভিডিও সেশন হয়েছে এবং ট্রেনিংয়ে সেটাই নিয়ে কাজ করেছি।
প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে পেনাল্টি কর্নারে দুর্বলতা লক্ষ্য করে গেছে। পিসি নিয়ে আসলে কি ভাবছেন?
জিমি : পেনাল্টি কর্ণারই আমাদের বড় শক্তি। তবে ঘানার বিপক্ষ্যে ম্যাচগুলোতে সেটা আমরা সেভাবে ব্যবহার করিনি। টার্নামেন্টে পিসির সুযোগ আসবে এবং সেগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য। আশরাফুল, চয়ন, খোরশেদের মতো পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট আছে আমাদের। ওদের কাছে আমরা গোল আশাকরি।
হোম গ্রাউন্ড নিশ্চই খেলায় সাহায্য করবে অনেক?
জিমি : অবশ্যই, হোম গ্রাউন্ডে খেলা বলে আমরা অনেক সাহায্য পাব। আশাকরি দর্শক মাঠে আসবে। সবার মানসিকতাও তেমনই যে, ঘরের মাঠে সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলা। এখানে যদি আমরা খারাপ ফল করি তাহলে সেটা নিজেদের জন্য এবং হকির জন্যই খারপ হবে। যেহেতু এই মাঠে অনেক দিন ধরেই প্র্যাকটিস করছি, আশা করছি মাঠে শতভাগই দিতে পারবো।