গ্রেটদের ইতিহাসের সাক্ষী এসএসসি

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে (এসএসসি) মিশে আছে ক্রিকেটের নানা কীর্তি। এখানে ব্রায়ান লারা, শচীন টেন্ডুলকার, মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমারা সাঙ্গাকারা, মুত্তিয়া মুরালিধরন, চামিন্দা ভাস সেঞ্চুরি করেছেন। ক্রিকেটের যারা মহানায়ক- তাদের নানা কীর্তি মিশে আছে এসএসসির সবুজ গালিচাতে। এখানেই মোহাম্মদ আশরাফুল ১৭ বছর আগে কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন।
সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড মূলত কলেজ পড়ুয়া কয়েকজন সিংহলিজ তরুণের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল। এখানেই এক সময় ছিল শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের কার্যালয়। চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই মাঠটি ব্যবহার করা হতো মিত্রশক্তির বিমান অবতরণ কাজে।
১৯৫২ সালে ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হলেও মাঠ প্রস্তুত হতে সময় লাগে আরও চার বছর। অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে কলম্বোর ‘দারুচিনি বাগানের’ এই ক্লাবটি। এই মাঠেই টেস্ট এবং ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল লঙ্কানদের। ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চামিন্দা ভাসের সেরা বোলিং এখানেই, ১৯ রানে ৮ উইকেট পেয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপের রেকর্ড (৬২৪) এখানেই। দুই বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমারা সাঙ্গাকারা গড়েছিলেন এই কীর্তি। জয়াবর্ধনেকে বলা যায় এসএসসির ‘বরপুত্র’, এই মাঠে তার আড়াই হাজারের বেশি রান, ১০টি সেঞ্চুরিসহ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের (৩৭৪) ইনিংস রয়েছে। শচীন-লারাও এই মাঠে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন।
কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের কাছাকাছিই অবস্থান সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডের। আকার-আয়তন ও নির্মাণ শৈলীর দিক থেকে এসএসসি অসাধারণ। যেন সাজানো গোছানো এক বাগান। মূল ফটক দিয়ে ঢুকলেই যে কারো মনে হতে পারে, ভুল করে কোনও রেস্টুরেন্টে ঢুকে গেছেন! ছিম-ছাম সাজানো গোছানো এক বাগান।
এক সময় এ মাঠেই ছিল শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যালয়। লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের অফিস স্থানান্তরিত হলেও সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব স্টেডিয়ামে এখনও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সদর দফতর রয়েছে। মাঠের বাইরে থেকেই চোখে পড়বে, এসিসি (এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল) লোগো সম্বলিত সাইনবোর্ড। গতবছর দুবাই থেকে সরিয়ে এখানে এসিসির কার্যালয় স্থাপন করে আইসিসি।
শ্রীলঙ্কার অন্যতম প্রাচীন এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৯৯ সালে। তবে এখানে ক্রিকেট মাঠ নির্মিত হয়েছে ১৯৫২ সালেই। ১৯৭৪ সালে ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার যে প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঐতিহাসিক ম্যাচের ভেন্যু এই সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠ। এমনকি এই মাঠেই লঙ্কানরা তাদের প্রথম ওয়ানডে খেলে। ১৯৮৬ সালে এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে আয়োজনের যাত্রা শুরু করে এসএসসি। সবমিলিয়ে সুবিশাল গ্যালারি, দামি ও সুসজ্জিত গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড, হসপিটালিটি বক্স আর কর্পোরেট বক্সের চাকচিক্য তুলনামূলক কম। উত্তর দিকে প্যাভিলিয়ন, ড্রেসিং রুম, দক্ষিণ দিকে প্রেসবক্স। পূর্ব দিকের বড় অংশ খোলা। মাঝামাঝি সিঙ্গারের সৌজন্যে ঢাউস সাইজের স্কোরবোর্ড। তবে সেটা ইলেক্ট্রনিক নয়। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ৩০ থেকে ৩৫ ফুট হবে এই স্কোরবোর্ড। একটা আধুনিক ক্রিকেট মাঠের প্রয়োজনীয় ও আনুসাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা যাই থাকে- সবই আছে এখানে। শুধু নেই ফ্লাডলাইট!-বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ