ঘন কুয়াশায় ঈশ্বরদীতে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা, শঙ্কায় বোরো আবাদ

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী



এবারের শীতকালে পৌষ মাষের শেষ দিকে এসে ঘন কুয়াশা, বৈরী আবহাওয়া আর তীব্র শীতের কারণে ঈশ্বরদীতে এবার হুমকির মুখে পড়েছে বোরো আবাদ।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, এ মওসুমে ঈশ্বরদী উপজেলায় ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পুরনের জন্য ১৬০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেন কৃষকরা। গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে আর অব্যাহত ঘন কুয়াশায় ঈশ্বরদীর ১৬০ হেক্টর উফশি ও ২৮ হেক্টর জমিতে হাইব্রিডসহ ১৬০ হেক্টর জমির বোরো বীজতলার অধিকাংশই লালচে হলুদ বরণ ধারণ করেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, কোথাও কোথাও বীজতলায় বোরো ধানের চারাগুলে ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে রোপনের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুরের একটি বোরো বীজতলায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার সব চারা হলুদ হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, এই বীজতলার চারা এখন রোপনের অযোগ্য হয়ে গেছে। কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এই বীজতলার চারা জমিতে রোপন করলে তা এক সপ্তাহও বাঁচিয়ে রাখা যাবে না।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি অফিসার বাকি বিল্ল¬াহ জানান, ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ ও হাইব্রিড জাতের এসব বোরো ধানের বীজতলা রক্ষার জন্য ইউরিয়া ও জিপসাম সার প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিদিন বীজতলার কুয়াশা ঝেড়ে দেয়া এবং চারাগুলোকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে কৃষকদের।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার রওশন জামাল জানান, ঈশ্বরদীতে এবার বোরো ধান আবাদের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপন করা হয়েছে। তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়া, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারনে এবার কৃষকরা সময়মত ধানের চারা বীজতলা থেকে তুলে জমিতে রোপন করতে পারছেন না।