ঘন ঘন বিদ্যুতের বিপর্যয় || গ্রাহক বিড়ম্বনার শেষ কবে?

আপডেট: মে ৪, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান সরকারের একটা বড় সাফল্য হলোÑ বিদ্যুৎ। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যা অতি গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ বর্তমান সভ্যতার প্রাণ বলা হয়। সরকারের হিসেব অনুযায়ী দেশের ৭৬ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বিদ্যুতের ব্যাপক উন্নয়নের পরও গ্রাহকদের দুর্বোগ মাঝেমধ্যে সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছেÑ সেভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের অগ্রগতি হয়নি। ফলে দেখা যায়, সামান্য দমকা-হাওয়া কিংবা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এই সমস্যা হচ্ছে সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে। কিন্তু এই ত্রুটি এতো ঘন ঘন হচ্ছে যে, গ্রাহকদের বিড়ম্বনার কারণ হচ্ছে এবং একই সাথে অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী গত রোববার কালবৈশাখি ঝড়ে রাজশাহীসহ দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে জীবনযাত্রা বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। ওইদিন রাজশাহী মহানগরীতে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যরাতের দিকে কোন কোন এলাকাতে আসতে শুরু করে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বৈশাখি ঝড়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন থাকায় থমকে যায় নগরীর জীবনযাত্রা। ঝড় থেমে যাওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলে ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সঞ্চালন লাইন মেরামতের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডের আরেকটি সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাট দেখা দেয়ায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণ জনপদের অন্তত ৩২ জেলার মানুষকে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে।
অবশ্য সঞ্চালন লাইনে সমস্যা দেখা দেয়ায় দেশের অর্ধেক জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পাঁচ দিন সময় দেয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ পেয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে আমরা স্বাগত জানাই। আশা থাকবে যে, তদন্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে যেসব ত্রুটি-বিচ্যূতি আছে সে গুলি বেরিয়ে আসবে। গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি, সন্দেহ- অবিশ্বাস আছে যে, ছোট-খাটো দমকা হাওয়া বা সামান্য বৃষ্টির কারণে কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘণ্টার ঘন্টা বন্ধ থাকবে? রোববারের কালবৈশাখি ঝড়ের তা-বে বিদ্যুৎ সংযোগে বিপর্যয়ের বিষয়টি গ্রাহকরা সহনীয়ভাবে নিলেও সরবরাহ চালু করতে ৭/৮ ঘণ্টা সময় লাগলো কেনÑ এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসা প্রয়োজন।
বিদ্যুতের উন্নয়ন খ-িতভাবে আমরা দেখতে চাই না। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরাবরাহ ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সময় এসেছে। এটি না করতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের যে সাফল্য তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সঞ্চালন লাইনগুলো অনেক পুরান, এগুলো দিয়ে সঞ্চালন ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণÑ এটি নতুন কিছু নয়। কর্মীদের অদক্ষতাও মাঝেমধ্যে স্পষ্ট হয়। একটি পরিপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদনই আমরা প্রত্যাশা করি- যা বিদ্যুতের উন্নত ব্যবস্থাপনায় পথ দেখাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ