ঘরে ঘরে স্মার্টফোন নয়, রোবট!

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৭, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একদিন, আমাদের স্মার্টফোনের পরিবর্তে রোবট থাকবে। এখন যেমন আমাদের ঘরে ঘরে স্মার্টফোন, তখন থাকবে রোবট। জীবনঘনিষ্ঠ রোবটগুলো আপনাকে বিভিন্ন ব্যাপারে পরামর্শ দেবে, জিনিস কিনতে সাহায্য করবে, এমনকি আপনার পছন্দমতো কফিও বানাবে।
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত জি-সামিট সম্মেলনে রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা রোবোটিক্সের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক যাবতীয় অগ্রগতি উদযাপন করেছে, এমনকি তারা বর্তমান রোবটগুলোর সীমাবদ্ধতাগুলো স্বীকার করেছে।
৪ ফুট লম্বা মানুষ আকৃতির ‘পিপার’ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক রোবটিক্স আমেরিকার প্রধান কৌশল কর্মকর্তা স্টিভ কার্লিন বলেন, ‘স্টার ওয়ার্স সিনেমার অভিনব এবং বুদ্ধিমান সি-৩পিও রোবট অনেকেই বাস্তবে প্রত্যাশা করেন কিন্তু এখন এটি বাস্তবে প্রত্যাশা করলে আশাহত হতে হবে।’
পিপার রোবট মানুষের মতোই আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে, মানুষের মনের অনুভূতি বুঝতে পারে, ভাব বিনিময় করতে পারে, বাসা-বাড়ি ছাড়াও প্রতিষ্ঠানে অভ্যর্থনা কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারে, কন্ঠস্বরও মানুষের মতোই। কিন্তু এটি আশেপাশে চলাফেরা করতে পারে না। অন্যদিকে বোস্টন ডায়নামিস্কের ভয়ানক চেহারার রোবটগুলো সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে পারে, তুষারপাতের মধ্যে চলাফেরা করতে পারে কিন্তু এগুলো জীবনঘনিষ্ঠ রোবট নয়। অর্থাৎ এগুলো আপনার সঙ্গে কথোপকথন করতে পারে না।
তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি গবেষকরা কিভাবে ‘সি-৩পিও’ রোবট বাস্তবে নির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন? উত্তরটা আপনার হাতে রয়েছে অর্থাৎ আপনার হাতের স্মার্টফোন।
একটি স্মার্টফোন বিভিন্ন প্রযুক্তির সংমিশ্রণ, যার সবকিছুই আলাদাভাবে এবং নিজস্ব সময়সীমা অনুযায়ী বিবর্তিত হয়েছে। স্মার্টফোনের প্রযুক্তিগুলো অত্যাধুনিক পর্যায়ে উন্নত হওয়ার পরই সেগুলোকে একত্রিত করা সম্ভব হয়েছে। যার ফলেই জন্ম হয়েছে স্মার্টফোন।
একটি রোবটও এক্ষেত্রে ভিন্ন নয়। এটি ভয়েস রিকগনেশন, ভিজ্যুয়াল কম্পিউটিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সহ বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তির একটি রূপায়ন। রাশিয়ান ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান মেইল ডট আরইউ এবং গ্রিশিন রোবটিক্স প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী দিমিত্রী গ্রিশিন বলেন, এসকল প্রযুক্তি অত্যাধুনিক পর্যায়ে উন্নত হওয়ার পর সেগুলোর সমন্বয়ে ‘সি-৩পিও’ এর মতো জীবনঘনিষ্ঠ বুদ্ধিমান রোবট নির্মাণ করাটা সহজে সম্ভব হবে।’ তবে স্মার্টফোনের এই উপমার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে জীবনঘনিষ্ঠ বুদ্ধিমান রোবট নির্মাণে আমরা কোন পর্যায়ে রয়েছি, তা তিনি খোলাসা করেনি। তবে আপনি আপনার স্মার্টফোনের বিভিন্ন উপাদানগুলো আবিষ্কারের সময়ের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের রোবট নির্মাণে কত সময় লাগতে পারে তার একটা ধারণা পেতে পারেন।
* প্রথম রেডিও ট্রান্সমিটার ১৮৮৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল।
* প্রথম বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফিক ক্যামেরা ১৮৩৯ সালে তৈরি করা হয়েছিল।
* প্রথম ক্যাথোড রে টিউব, যেটি আজকের ডিজিটাল ডিসপ্লের অগ্রদূত, সেটি ১৮৯৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল।
* প্রথম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটটি ১৯৪৯ সালের আগে তৈরি করা হয়েছিল।
অবশ্যই, স্মার্টফোন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আরো অনেকগুলো উপাদান রয়েছে। কিন্তু আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, আমরা যখন ২০০৭ সালে আইফোনের প্রবর্তনের আগ পর্যন্ত পৌঁছাইনি তখন স্মার্টফোনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির আবির্ভাবের থেকে ১০০ বছরের বেশি সময় লেগেছিল।
তার মানে আমরা কি সায়েন্স ফিকশন রোবট থেকে এখনো ১০০ বছর পেছনে রয়েছি? আসলে তা নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতি খুব গতিতে এগোচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবন হচ্ছে।
সুতরাং ভালো খবর হল, আপনার বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণে অতি বুদ্ধিমান সি-৩পিও রোবট আসছে। কিন্তু তাই বলে এখনই আপনার স্মার্টফোনটিকে ফেলে দেবেন না। তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ