ঘরে বসে থেকেই করোনা পরীক্ষা

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২০, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে নগরীতে বসবাসরত কোন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে সন্দেহভাজন হলে রামেক হাসপাতালে জানালে রোগীর বাড়ি এসে চিকিৎসক ও টেনোলজিস্টরা নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। তাদের সংগৃহীত নমুনা রামেক ল্যাবে পরীক্ষা করে পরে রোগীকে জানিয়ে দেয়া হবে। এমন তথ্য দিয়েছেন রামেক হাসপাতালের করোনা ল্যাবের ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনাহার।
মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন করোনা নির্ণয় ও চিকিৎসক টিমের প্রধান ডা. আজিজুল হক আজাদ জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আব্দুস সোবহান নামের ৮০ বছর বয়সের ওই রোগী গত ১৭ এপ্রিল রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সোমবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।
ব্রিফিংয়ে ডা. আজাদ বলেন, সংক্রামক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বয়স ৮০ বছর। তাকে বুঝতে আমাদের একটি দেরি হয়ে যায়। কারণ তিনি বলেন নি বাহির থেকে আসা কারও সংস্পর্শে গিয়েছিলেন। তিনি জ্বর ও প্রস্রাবের সমস্যার কথা বলে ভর্তি হয়েছিলেন। সেভাবেই তার চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে তার এক্স-রে করার পর করোনার উপসর্গ কিছুটা বোঝা যায়। এরপর তাকে করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠাই।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসক,নার্সসহ সংশ্লিষ্ট ৪২কে কোয়ারেন্টিানে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ২০জন চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের পর্যটন মোটলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। বাকিরা প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও আগামী দুই দিনের মধ্যে সবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও লকডাউন করা হয়েছে রামেক হাসপাতালের ৪২ নম্বর ওয়ার্ড। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর পর ওয়ার্ড লকডাউন করে কর্তৃপক্ষ।
রামেক সূত্রে আরও জানা গেছে, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আব্দুস সোবহান নামের ৮০ বছর বয়সের ওই রোগী গত ১৭ এপ্রিল রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। প্রথমে তাকে ৪২ ও পরে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে নেয়া হয়। এর এক্স-রে করার পর করোনার লক্ষণ পাওয়া গেলে তাকে সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর করোনা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে এই করোনা রোগী নিয়ে হাসপাতালকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ্য করে চিকিৎসকদের প্রকাশ্যে নিয়মিত ব্রিফিং বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের গেটে করোনাভাইরাসের রাজশাহীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসকরা ব্রিফিং করতেন। কিন্তু বুধবার থেকে এখনো আর ব্রিফিং করা হবে না। তবে সেটি অনলাইনে করার চিন্তা চলছে বলে জানিয়েছেন করোনা নির্ণয় ও চিকিৎসক টিমের প্রধান ডা. আজিজুল হক আজাদ। ডা. আজাদ বলেন, এই রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তিনি এখন পর্যন্ত ভাল আছেন। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তার স্ত্রী ও ছেলে রয়েছেন। তাদের আজ (মঙ্গলবার) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা হবে তাদের অবস্থা।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে আক্রান্ত অপর সাত রোগী ভাল রয়েছেন। সবার চিকিৎসা চলছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ১৪ দিন পার হওয়ার পর প্রত্যেকের দ্বিতীয় পরীক্ষা করা হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার পরীক্ষার পর রাজশাহীতে আরও তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ। এ নিয়ে রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটজনে।
রাজশাহী জেলার আটজনের মধ্যে পুঠিয়া উপজেলায় পাঁচজন, বাঘায় একজন, বাগমারায় একজন ও মোহনপুরে একজন আক্রান্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন নারী ও চারজন পুরুষ। এদের সাতজন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে এসেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে রামেকের সভাকক্ষে রাজশাহীতে করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সভা করেছে রামেক হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা।
সভায় জানানো হয়, করোনা রোগিদের চিকিৎসার জন্য রাজশাহীর খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালও প্রস্তুত করা হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রামেক হাসপাতালের চুক্তি হয়। মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালটি পুরোপুরি প্রস্তুত। মিশন হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সদের পাশাপাশি রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরাও সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাবেন।
এছাড়া রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ভবনটি কোভিড-১৯ রোগিদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার হবে। চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছে ১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি টিম। এখন সন্দেহভাজন রোগিদের রাজশাহীর সংক্রামক ব্যাধি (আইডি) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রামেকের ল্যাবে সন্দেহভাজন রোগিদের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এই মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করা খুব প্রয়োজন। প্রত্যেকটি সরকারি দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে আমরা করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।
সভা পরিচালনা করেন, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস, করোনার চিকিৎসা টিমের প্রধান ডা. আজিজুল হক আজাদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খলিলুর রহমান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সাজিদ হোসেনসহ হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা সভায় অংশ নেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ