ঘুম থেকে উঠে কী করেন বিখ্যাত ব্যক্তিরা?

আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সকালবেলা প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে ওঠার পরে আপনার মেজাজ সারাদিনের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। আপনি কী করেন ঘুম থেকে উঠার পর?
সফল ব্যক্তিরা ঘুম থেকে উঠার পর যে কাজ করেন তা দিয়েই নির্ধারণ হয় তিনি সারাদিনের চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করবেন। তারা ঘুম থেকে উঠে কিছু সময় ব্যয় করেন যে সারাদিন তিনি কি কি করবেন। বিখ্যাত ১০ ব্যক্তির ঘুম থেকে উঠার পর কী করেন, চলুন জেনে নিই।
১. বারাক ওবামা : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিছুদিন আগেই অবসরে গেছেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি কোনও ছুটি নেননি। সেসময় তিনি মাত্র পাঁচ ঘন্টা ঘুমাতেন। ঘুম থেকে উঠার পর তিনি ছোটখাটো বিষয় যেমন কি পড়বেন বা কি খাবেন তা নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। ওবামা প্রতিদিন সকালে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করতেন। বড় বড় সিদ্ধান্ত তিনি মিটিংয়ে নিতেন।
২. ভ্লাদিমির পুতিন: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অনেক ব্যস্ত সময় কাটান সারাদিন। তার ব্যস্ত সময়ে ঘুমানোর জন্য খুবই কম সময় পান। যত রাত করেই ঘুমান না কেন ঠিক সকাল ৮টায় তাকে উঠতে হয়। এ নিয়ে তাকে অভিযোগ করতে শোনা যায় যে তিনি মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। ঘুম থেকে উঠে তিনি খুব সাধারণ নাশতা করেন। এরপর কফি পান করে ২ ঘন্টা সাঁতার কাটেন। ধারণা করা হয় এ সময় তিনি রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করেন। এরপর তিনি কিছু সময় জিমে সময় কাটান। তিনি গভীর রাতে ঘুমাতে বেশি পছন্দ করেন। জিমে ব্যায়াম শেষে তিনি তার প্রাত্যাহিক কাজ শুরু করেন।
৩. ডোনাল্ড ট্রাম্প: প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদিন সকালের অভ্যাসে কোনও পরিবর্তন আসেনি। নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে তিনি যেভাবে তার দিন শুরু করতেন, হোয়াইট হাউসেও একইভাবে দিন শুরু করেন। প্রতিদিন ভোর ছয়টার আগেই তার ঘুম ভাঙ্গে। ঘুম থেকে উঠে তিনি ওয়েস্ট উইয়ের ছোট ডাইনিং রুমে বসে টিভি চালু করেন। হাতে তুলে নেন নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট এবং ওয়াশিংটন পোস্ট। এ পত্রিকাতে তিনি নজর বুলিয়ে নেন। ঠিক নয়টায় তিনি মিটিংয়ে বসেন। এরপর তারা অন্যান্য কাজ শুরু হয়।
৪. কিম কারদাশিয়ান: কিম কারদাশিয়ানের সকাল শুরু হয় স্মার্টফোনে সময় দিয়ে। তিনি সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে ওঠেন। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই তিনি বিছানার পাশে রাখা আইফোন ও ব্ল্যাকবেরিতে চোখ বুলিয়ে নেন। স্বামী কেনিয়ের সঙ্গে আগত দিন এবং তাদের কাজ নিয়ে আলোচনা করেন। বিছানা থেকে উঠে তার মেয়ে নর্থের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তিনি এক ঘণ্টা দৌড়ে নেন। দৌড় শেষে তার মেয়ের সঙ্গে নাশতা করেন।
৫. অপরাহ উইনফ্রে: সারা বিশ্বজুড়ে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বলে খ্যাত অপরাহ উইনফ্রের দিন শুরু হয় মেডিটেশন দিয়ে। প্রতিদিন সূর্য উঠার আগে তিনি কিছু সময় ব্যয় করেন মেডিটেশনে। এই বছরে উইনফ্রে দীপক চোপড়ার সঙ্গে ২১ দিনের মেডিটেশন চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানে শত শত মানুষকে প্রাত্যাহিক জীবনে উন্নতি করতে সাহায্য করছে।
৬. বিল গেটস: বিশ্বের শীর্ষ ধনী বিল গেটস তার সকাল শুরু করেন নিজের ব্যক্তিগত জিমে। প্রায় এক ঘন্টা সময় তিনি এখানে ব্যয় করেন। তিনি ৭ ঘণ্টা ঘুমাতে পছন্দ করেন। বিল বলেন, সারারাত জাগা খুবই আনন্দের বিষয়। কিন্তু আপনি যদি সৃজনশীল হতে পান তবে ৭ ঘন্টা আপনাকে ঘুমাতেই হবে। আমি না ঘুমিয়ে বক্তৃতা দিতে পারবো, যে কোনও কাজ করতে পারবো। কিন্তু সৃজনশীল চিন্তার জন্য আমাকে ৭ ঘন্টা ঘুমাতেই হবে। নাহলে আমি চিন্তা করতে পারবো না।
৭. মার্ক জাকারবার্গ: ফেসবুকের জন্মদাতা মার্ক জাকারবার্গ জানান সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি প্রথম যে কাজ করেন, তা হলো ফেসবুক দেখেন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে কী ঘটছে তা জানতে আমি প্রথমেই ফেসবুক চালু করি। এরপর কোনও বার্তা এসেছে কিনা দেখেতে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ দেখি। খুব বেশি সময় ব্যয় করি না। কয়েক মিনিট সময় নিই। মার্ক সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। তবে তার মেয়ে ম্যাক্সের কারণে সকালেই ঘুম ভাঙে। সকাল ৮টায় ঘুম থেকে উঠেন তিনি। মাঝে মাঝে চেষ্টা করেন দৌড়ানোর অথবা ব্যায়াম করার।
৮. জেফ বেজোস: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইকমার্স ওয়েবসাইট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস তার সকাল শুরু করেন সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে। অফিসে যাওয়ার আগে তিনি হালকা ব্যায়াম করেন। একই সাথে সংবাদপত্রে চোখ বুলিয়ে নেন। তিনি সবসময় চেষ্টা করেন অফিসে সময় কম দিতে।
৯. রাণী এলিজাবেথ: ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথ ২ ব্রিটিশ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শাসনের রেকর্ড গড়েছেন। তার কোন অভ্যাস ৬০ বছর ধরে তাকে সিংহাসনে বহাল রেখেছে তা জানতে চান অনেকেই। রাণী প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ এ ঘুম থেকে ওঠেন। চা দিয়ে মেরি বিস্কুট খেতে খেতে তিনি সংবাদপত্রে চোখ বুলান। অন্যপাশে চলে সকালের রেডিও অনুষ্ঠান।
১০. ওয়ারেন বাফেট: বিশ্বের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে খ্যাত ওয়ারেন বাফেট তারা সকাল শুরু করেন পড়ার মাধ্যমে। তিনি শুধু খবরই পড়েন না, যা যা সামনে পান সবই পড়েন। দিনের ৮০ ভাগ সময় তিনি পড়ার পেছনে ব্যয় করেন। প্রতিদিন ৫০০ পৃষ্ঠা করে তিনি পড়েন। সূত্র-বিজনেস ইনসাইডার, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, টেলিগ্রাফ, দ্য উইক

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ