চট্টগ্রামে আহলে হাদিসে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় জামায়াত-শিবির-হিযবুতকর্মীরা

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীরের কর্মীরা আহলে হাদিসের ব্যানারে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় আছে বলে মনে করছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার ঝর্ণাপাড়া এলাকা থেকে ‘গোপন বৈঠকের’ প্রস্তুতি নেয়ার সময় গ্রেপ্তার ১৭ জনের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
তাদের বক্তব্য, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন আগে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনজন যুক্ত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে এবং আর কয়েকজন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে।
১৭ জনের মধ্যে এক আইনজীবীও আছেন, যিনি ২০১১ ও ২০১৫ সালে নগরীর হালিশহর থানার দুটি নাশকতার মামলার আসামি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মো. ইব্রাহিম নামের এই আইনজীবীই ১৭ জনের এই দলটির নেতা বলে পুলিশের ধারণা। আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় রোববার বিকালে তাদেরকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে মহানগর হাকিম নাজমুল হোসেন জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদাত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. ইব্রাহিম আগে জামায়াতের কর্মী ছিলেন। হালিশহর থানায় ২০১৫ সালের মার্চে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় তিনি আসামি। ২০১১ সালের আরও একটি নাশকতার মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। দুই মামলাতেই তিনি জামিনে আছেন বলে জানিয়েছেন।”
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ‘বেশ কিছু বইপত্র’ উদ্ধার করার কথা জানিয়ে পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের তিন সাবেক শিক্ষার্থী আছেন। তারা আগে ছাত্রশিবির করতেন। চার-পাঁচজন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
“সম্প্রতি তারা খুলশী এলাকায় আহলে হাদিসের একটি মসজিদে যাওয়া শুরু করেন। সেখানে তারা নামাজ পড়েন। বিভিন্ন সংগঠনের লোকজনকে মোটিভেট করে তারা সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।”
শাহাদাত হোসেন বলেন, “এটা এলার্মিং। আগেও আমরা দেখেছি নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন মূলত আহলে হাদিসপন্থী। তারা আহলে হাদিসের ভাবধারায় বিশ্বাসী। এরা কি উদ্দেশ্যে আহলে হাদিসের মতাদর্শে একত্রিত হচ্ছে এবং কেন গোপন বৈঠকে মিলিত হতে চেষ্টা করছিল সেটা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে।”
দুই একদিনের মধ্যে গ্রেপ্তারদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা শাহাদাত।
গত মঙ্গলবার কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলার পর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি ‘জঙ্গি আস্তানার’ সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর থেকে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে।- বিডিনিউজ