চব্বিশ কেজি ওজনের কচ্ছপ পাচারকালে নাটোর থেকে উদ্ধার

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০২২, ১১:০৩ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী বাসে ২৪ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির একটি কচ্ছপ ঢাকায় নেয়ার সময় নাটোরের বনবেলঘরিয়া বাইপাস এলাকায় উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার রাত ১১টার দিকে শহরের বনবেলঘরিয়া বাইপাসে নিউএসআর ট্রাভেলস নামে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশী চালিয়ে ওই কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। তবে ওয়াইল্ডলাইফ জাস্টিস কমিশন (ডাব্লিউজেসি) নামে একটি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার মতে, এটি মিঠে পানির কাছিম এবং কচ্ছপ চোরাচালানের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলারের যে ব্যবসা চলছে বিশ্বজুড়ে, তার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। ধারণা করা হচ্ছে পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেয়া হচ্ছিল ।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি এসএম আবু সাদাদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাটোর শহরের বনবেলঘরিয়া বাইপাস এলাকায় নিউএসআর ট্রাভেলস এর একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালানো হয়। এসময় বাসের মালামাল রাখার বক্স থেকে ২৪ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ওই কচ্ছপটি উদ্ধার করা হয়। যার বুকিং চালান থেকে জানা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিউএসআর ট্রাভেলস এর একটি যাত্রীবাহী বাসে মাছের কথা উল্লেখ করে বুকিং দেন জুলমত নামের এক ব্যক্তি। এটি ঢাকার সাভার ফুলবাড়ী এলাকার তরুণ নামের এক ব্যক্তির নিকট পাঠানো হচ্ছিল।
বিষয়টি রাজশাহীর বন্য প্রাণী ও প্রৃকতি সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহীকে জানানো হয়েছে। তারা এলে তাদের কাছে কচ্ছপটি হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ওয়াইল্ডলাইফ জাস্টিস কমিশন এর তথ্য বলছে ২০১৬ সালে ‘অপারেশন ড্রাগন’ নামে এই তদন্ত শুরু করে। তাদের ছদ্মবেশি কর্মীরা বিভিন্ন দেশে গিয়ে এই চোরাচালান নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। দু বছর ধরে চলে এই অনুসন্ধান চালায়। তাদের তদন্তে অনেক চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এই চোরাচালান ব্যবসায় উচ্চ পর্যায়ের অনেক অপরাধীকে চিহ্ণিত করা সম্ভব হয়। মিঠে পানির কাছিম এবং কচ্ছপের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে চীন এবং হংকং। সেখানে এসবের সাংঘাতিক কদর।
ওয়াইল্ডলাইফ জাস্টিস কমিশন তাদের দুবছরব্যাপী অনুসন্ধানে দেখতে পেয়েছে এশিয়া জুড়েই বেশকিছু কেন্দ্র রয়েছে এই চোরাচালান নেটওয়ার্কের। তবে এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার এটি ‘সেফ হাউস’। এটি মূলত পাচার করে আনা কচ্ছপ এবং কাছিম রাখার জায়গা। পাচার হওয়া কাছিম ও কচ্ছপের শেষ গন্তব্য বিশ্বের নানা দেশ ও নগরী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ