চমক দেখানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



কলম্বো-ডাম্বুলা মহাসড়কের পাশেই ডাম্বুলা রণগিরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। পাশে বললে আসলে কিছুই বলা হয় না। সড়ক ঘেঁষেই প্রবেশ-দুয়ার। একটু অন্যমনস্ক হয়ে দাঁড়ালেই দ্রুত ধাবমান গাড়ি আপনাকে পিষে ফেলবে।
প্রবেশ-দুয়ারে এলেন মানেই ঢুকে পড়লেন স্টেডিয়ামে। তা কিন্তু নয়। আপনি হাঁটছেন তো হাঁটছেনই, পথ যেন আর শেষ হবে না। প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে মূল মাঠ, মূল স্থাপনা। সরাসরি গাড়িতে না এসে হেঁটে এলে বলতে হবে আপনার পায়ে জোর আছে। প্রায় ৬০ একর জায়গার ওপর এই স্টেডিয়াম। ২০০০ সালে মাত্র ১৬৭ দিনের মধ্যে এই স্টেডিয়াম তৈরি করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন থিলাঙ্গা সুমাথিপালা। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের সেই সময়কার সভাপতি এখন আবার শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের সর্বেসর্বা। চির গ্রীষ্মের দেশ শ্রীলঙ্কা আসলে এমন একটি ক্রিকেট ভেন্যু খুঁজছিল, সেখানে বৃষ্টির উৎপাত এড়িয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চালানো যায়। এটি শ্রীলঙ্কার শুষ্ক এলাকা সেন্ট্রাল প্রভিন্সে (মধ্য প্রদেশ)। অরণ্য আর পাহাড়ে ঘেরা এলাকা। স্টেডিয়ামের দিকে তাকালেই সেটি বুঝতে পারবেন। পূর্ব দিকে সবকিছু ছাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে ডাম্বুলা পাহাড় (ডাম্বুলা রক), পশ্চিমে বিশাল হ্রদ (যেটি আসলে প্রাকৃতিক জলাধার)।
স্টেডিয়ামের এই জায়গাটা বিখ্যাত বৌদ্ধমন্দির গোল্ডেন টেম্পলের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া। এই ইজারাসংক্রান্ত জটিলতায় ২০০১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের পর দ্বিতীয়টির জন্য ডাম্বুলা স্টেডিয়াম অপেক্ষা করেছে প্রায় দুই বছর। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৩০ হাজার, যদিও বাস্তবে ধারণক্ষমতা ১৬৮০০।
ডাম্বুলা স্টেডিয়ামের ‘জীবনে’ বিরতি একটা বড় জায়গা নিয়ে আছে। ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়ার দুই বছর পর ২০০৩ সালে এখানে হয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচ এবং সেটি ওই বছরই ফ্লাডলাইট স্থাপনের পর। এরপর ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিরতির কারণ ওই ফ্লাডলাইট। আইসিসির বেঁধে দেওয়া মান রক্ষা করতে পারেনি ফ্লাডলাইট। আলো হয় কম। ৩০টি দিবা-রাত্রির ম্যাচ হওয়ার পর প্রচ- সমালোচিত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট পরের তিন বছর এখানে কোনো ম্যাচই দেয়নি।
আবার এখানে ম্যাচ ফেরে গত বছর ২৮ আগস্ট। ওটিই ছিল শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ক্রিকেটের এক মহিরুহ তিলকরতেœ দিলশানের বিদায়ী ম্যাচ, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। নতুন করে ফ্লাডলাইট বসানোর পরিকল্পনা করছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। ফ্লাডলাইটের ৮টি টাওয়ার সরিয়ে শিগগিরই নাকি বসানো হবে ৪টি এলইডি টাওয়ার।
ডাম্বুলায় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানেই শ্রীলঙ্কার আধিপত্য। এখানে হওয়া ৪৮টি ম্যাচের ২৪টিতেই জিতেছে শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় সফলতম দল ভারতের জয় মাত্র ১০টি। আর বাংলাদেশের জন্য ডাম্বুলা শুধুই ব্যর্থতা কিংবা দীর্ঘশ্বাসের ইতিবৃত্ত। ৩টি ম্যাচ খেলে সব কটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ এবং বড় ব্যবধানে। সে ২০১০ এশিয়া কাপে।
মূলত ফল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ডাম্বুলা বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কাছে খুবই পবিত্র জায়গা। এখানে খ্রিষ্টের জন্মের ৮৫ বছর আগে নির্মিত গুহা মন্দির আছে। দেশ-বিদেশ থেকে তাই ছুটে আসেন তীর্থযাত্রীরা। বিখ্যাত এই শহরে কি ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন যাত্রা শুরু হবে বাংলাদেশের?
আমরা বলি ডাম্বুলা, শ্রীলঙ্কানরা বলে ডাম্বুল্লা। সারা শ্রীলঙ্কার মধ্যে এখানেই ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে একটু বেশি। চমকে দেয়া এই স্টেডিয়ামে চমক দেখানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ।