চরমে লালফৌজের যুদ্ধপ্রস্তুতি, নিশানায় আমেরিকা

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



‘বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস’৷ মাও জে দং-এর বিখ্যাত উক্তিটি অক্ষরে-অক্ষরে মেনে চলছে চিন৷ ধৈর্য্য ধরে সামরিক, অর্থনৈতিক শক্তি বাড়িয়ে আজ আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো মহাশক্তিধর দেশকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে কমিউনিস্ট দেশটি৷ সম্প্রতি, দক্ষিণ চিন সাগরে বিতর্কিত নির্মাণ করে বেজিং সৃষ্টি করেছে সংঘাতের পরিস্থিতির৷ তাই এবার যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য লালফৌজকে ঢেলে সাজাচ্ছে বেজিং৷
সামরিক ক্ষমতায় প্রায় আমেরিকাকে ছুঁয়ে ফেলে এবার চিনা বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত হল ‘ঔ-২০’ স্টেলথ ফাইটার জেট৷ রাডারে অদৃশ্য এই যুদ্ধবিমানটি টেক্কা দেবে অত্যাধুনিক মার্কিন ‘ঋ-২২’ যুদ্ধবিমানকে৷ এছাড়াও মহাসাগরে আধিপত্য কায়েম করতে ও মার্কিন নৌসেনা কে জবাব দিতে প্রথমসারির নৌবাহিনী ও মেরিন কর্পস তৈরি করছেন শি জিনপিং৷ ক্ষমতায় এসেই জিনপিং লালফৌজের আধুনিকীকরণে মন দিয়েছেন৷ তাই বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই সেনা এবার পেতে চলেছে স্যাটেলাইট বিধ্বংসী মিসাইল, অত্যাধুনিক সাবমেরিন ও এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার৷
বৃহস্পতিবার, ঔ-২০ যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়েছে চিনা সংবাদমাধ্যম৷ এই বিমানটি প্রথম নজরে আসে ২০১০ সালে৷ মার্কিন ঋ-২২ ও ঋ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলিকে টক্কর দিতে এই বিমান বানানো হয়েছে৷ এছাড়াও, ঔ-৩১ নামের আরেকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বানাচ্ছে চিন৷ ২০১৪ সালে একটি বিমান প্রদর্শনীতে দেখা যায় এই বিমানটি৷
এছাড়াও, মার্কিন সেনাকে টক্কর দিতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নৌসেনার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে চিন৷ তাই এবার চিন মন দিয়েছে অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও সাবমেরিন বানাতে৷ ইতোমধ্যে, স্বশাসিত তাইওয়ানের জলসীমায় ঢুকে পেশিশক্তি প্রদর্শন করেছে লালফৌজের বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিং৷ এছাড়াও দক্ষিণ চিন সাগর ও পূর্ব চিন সাগরে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে চিনা রণতরী৷ চিনা নৌসেনার আধিকারিক, ওয়াং ওয়েইমিং জানিয়েছেন, একটি মেরিন কর্পস বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে চিন৷ নাম না করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই জলসীমায় থাকা প্রত্যেকটি যুদ্ধজাহাজের উপর নজর রাখছে চিনা রণতরীগুলি৷ এবং তাঁরা যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত৷ ২০২০ সালের মধ্যেই দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পেতে চলেছে লালফৌজ৷
চিনের এই দ্রুত উত্থানে উদ্বিগ্ন ভারত৷ সম্প্রতি, করাচি বন্দরে দেখা গিয়েছে চিনা সাবমেরিন৷ এছাড়াও, ভারত মহাসাগরে একাধিকবার দেখা গিয়েছে চিনা রণতরী৷ তাই এবার আগ্রাসী বেজিংকে রুখতে হাত মিলিয়েছে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন৷ দুদেশের মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তির মাধ্যমে এবার ভারতের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে মার্কিন সেনা৷ তবে যাই হোক না কেন নিজের শক্তি সংহত করে এবার চিন খোলা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে মহাশক্তিদের- সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ