চরাঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়ন প্রকৃত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ চাই

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

দেশের চরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়নে সরকার নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব স্থানে নতুন করে স্কুল করা হবে। এছাড়াও এ মাসে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে, যাদের সবাইকে এ স্কুলগুলোতে নিয়োগ দেয়া হবে। ৩০ জানুয়ারি কুড়িগ্রামে ডিপিএড কোর্সের উদ্বোধনী ও নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সরকারের এই পদক্ষেপের তথ্য জানান। এ সংকান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
স্কুল তৈরি ও শিক্ষক নিয়োগ করলেই যে চরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়ন হয়ে যাবে এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। এটি সমস্যার অংশবিশেষের সমাধান বটে তবে তা সামগ্রিক শিক্ষায় খুব কমই প্রভাব পড়বে। প্রকৃতঅর্থে চরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং বাস্তবসম্মত কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণের সদিচ্ছাটাও থাকতে হবে। চরাঞ্চলের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের দুর্ভোগ আর ভোগান্তির বিষয়টি খুবই প্রণিধানযোগ্য। শিক্ষা গ্রহণে ও শিক্ষা প্রদানে স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা না গেলে অবকাঠামো নির্মাণ ও ও শিক্ষক নিয়োগ দিলেই ওই পরিস্থিতির নিরসন হবে না। চর এলাকার স্কুলগুলোতে দেখা গেছে শিক্ষকদের উপস্থিতি খুবই হতাশাজনক। অধিকাংশ শিক্ষকই সপ্তাহে দু’একদিন চরে গিয়ে ক্লাস নেয়। নারী শিক্ষকদের জন এ সমস্যা আরো প্রকট হয়।
দেশে শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম চললেও ব্যাহত হচ্ছে চরাঞ্চলে শতভাগ শিক্ষা কার্যক্রম। বিছিন্ন যোগাযোগ আর দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক থাকার দরুণ ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এছাড়াও চরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো এবং শিক্ষক সংকটের কারণে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। যাতায়াতের জন্য বেতনের সিংহভাগই খরচ করতে হয় বলে শিক্ষকদের অভিযোগ। এমন শত-শত ভোগান্তির কারণেই বিঘ্নিত হচ্ছে চরের পাঠদান ব্যবস্থা।
শিক্ষকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। শহরের শিক্ষকের তুলনায় চরের শিক্ষকরা অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় বলেও শিক্ষকরা অভিযোগ করেন। চরের শিক্ষক হবার দরুণ অফিস কিংবা সমাজে অবজ্ঞার শিকার হতে হয়। চরের স্কুল বলেই অবকাঠামো এবং বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বঞ্চনার শিকার হতে হয় চরের শিক্ষকদের।
বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বারোপ করছেন, চরাঞ্চলের শিক্ষকদের বিশেষ প্রণোদনা চালু এবং বদলি জটিলতা নিরসনসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, শিক্ষকদের মানসিক চাপ দূর করার উপর জোর দেয়া ।
চরাঞ্চলে মানসম্মত পাঠদানের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট দূর করা, চরের শিক্ষকদের বিশেষ প্রণোদনা চালুসহ অন্তত ২/৩ বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলি পদ্ধতি চালু করা। এতে করে শিক্ষকদের মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি বদলি বাণিজ্য কমে আসবে বলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ