চর আষাড়িয়াদহ ফেরি চলাচলের প্রস্তাব যাচ্ছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ‘চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণের হাতছানি’

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২২, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর গোদাগাড়ী সদরের সাথে চরআষাড়িয়াদহ ফেরি চলাচলের প্রস্তাব যাচ্ছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল ওই এলাকা পরিদর্শন করে ফেরি চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছেন। এসময় তিনি বলেন, খুব শিগগিরইএই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পাঠানো হবে। গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুরঘাট থেকে চরআষাড়িয়াদহ ঘাটের জলপথের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৩ কি.মি.। ফেরি চলাচল শুরু হলে চর অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য বিস্তার লাভ করবে। বিনিয়োগ বাড়বে ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। তাদের উৎপাদিত পচনশীল পণ্য দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠাতে পারবেন। এতে পণ্যের ভালো দাম পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী বাদ পড়েই রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য দিক থেকে চরের মানুষ এগোতে পারছে না। এখন সময় এসেছে চর নিয়ে অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের। চরের মানুষগুলোর জীবনমান অত্যন্ত নাজুক প্রকৃতির। নেই শতভাগ স্যানিটেশন, নেই বিশুদ্ধ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এর ফলে, আষাড়িয়াদহ চরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত জনসাধারণের স্থায়ীভাবে জীবন মানের উন্নয়ন হবে।

চরাঞ্চলে মানুষের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, চরাঞ্চলে দীর্ঘ দিন পর যাতায়াতের সুব্যবস্থা হতে যাচ্ছে। কৃষিনির্ভর চরাঞ্চলের মানুষ ধান, ভুট্টা, সরিষা, টমেটো চাষ করে জীবন নির্বাহ করে থাকেন। জমি চাষাবাদের সুবিধার্থে খাল খনন করা হবে। পানি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে দেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। সেই লক্ষে জেলায় মোট ৪৩শো ঘরের মধ্যে ১৩শো ঘর গোদাগাড়ী উপজেলায় দেয়া হয়েছে। চর অঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্রদান করা হবে। ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান তিনি। এই চর অঞ্চল থেকে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে। মাদক থেকে নিজেদের দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১৮ বর্গ কি.মি. আয়তনে ১৬টি গ্রামে ৩১ হাজার জনগণ বসবাস করেন। এই চরের উত্তর ও পূর্বে পদ্মা নদী, দক্ষিণে ভারত সীমান্ত ও পশ্চিমে আলাতুলী। এখানে ২ হাজার ৮শো হেক্টর পলিযুক্ত উর্বর কৃষিজমিতে সরিষা, টমেটো, ধান ও ভূট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের চাষ করা হয়। এছাড়াও এই চরাঞ্চলে নয়টি প্রাথমিক স্কুল, তিনটি মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক স্কুল এবং একটি এতিমখানা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, চর আষাড়িয়াদহ অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের কাছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সুবিধা খুব একটা পৌঁছায় না। তীব্র নদীভাঙন, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এখানকার মানুষকে টিকে থাকতে হয়। কিন্তু এসব এলাকার খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ। চরাঞ্চলে শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ মৌলিক সেবার অপর্যাপ্ততা রয়েছে। দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা, দুর্গম ও জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যানিটেশন সমস্যা, ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃস্বাস্থ্য, খাদ্যাভাব ও কৃষি উৎপাদনে সীমিত সুযোগ, কর্মসংস্থানের অভাব ও পণ্য বাজারজাতকরণের অসুবিধা রয়েছে। এছাড়াও পলিযুক্ত উর্বর কৃষিজমিতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল থাকায় কৃষি ও গবাদিপশু পালনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক খাদ্য উৎপাদনেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ফেরি চলাচলের সুব্যবস্থা করা হলে চরের মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ