চর এলাকার কৃষি, পশু ও পাখি নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

আপডেট: মে ২৯, ২০২১, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

চর সাধারণত দুর্গম এলাকা হয়ে থাকে। এখানের যারা অধিবাসী- সন্দেহ নেই, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে কঠিন জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের টিকে থাকতে হয়। নাগরিক সুবিধা বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্য সুবিধার খুব কমই পেয়ে থাকে। অথচ চর এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। হয়ত সেটা আছে কিন্তু সীমিত পর্যায়ে। সেখানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দেশ নানাভাবে এগিয়ে যেতে পারে। যেমন- চোরাচালান নিরোধ, বিশেষ করে মাদকের চোরাচালান বন্ধ এবং সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠির আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সম্ভাবনার নিরসন হতে পারে।
রাজশাহী মহানগরবাসীর জন্য প্রতিদিন সতেজ সবজির একটা বড় অংশ চর এলাকা থেকে আসে। এমনি ভাবে পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ির চর এলাকা থেকেই বিপুল পরিমাণ কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে সেখানের মানুষ পশু-পাখি পালনে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। নিঃসন্দেহে এটা একটি ইতিবাচক দিক। তবে চর এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নাগরিক সুবিধা বাড়াতে যে ধরনের বিনিয়োগ দরকার সেটার অনুপস্থিতি খুবই লক্ষনীয়। বর্ষকালে চর এলাকার মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। ঘরবাড়ি ডুবে যায়, পশু-পাখি ও ফসল ভেসে যায়- সে ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরত্ব প্রবলভাবে দেখা হয় না। যেটার তারা হকদার।
চর এলাকার সম্ভাবনার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেখানে কৃষির ক্ষেত্রে যে বড় ধরনের সাফল্য সম্ভব সেটা সেখানের মানুষ ইতোমধ্যে জানান দিয়েছেন। তারা পশু-পাখি পালনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে। অর্থাৎ চর এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হলে সেটা সেখানের মানুষের বঞ্চনার অবসান হবে যেমন- তেমি সামাজিক নিরাপত্তাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।
চর এলাকার সম্ভাবনা ইতিবাচকভাবেই ভাবাচ্ছে। দৈনিক সোনার দেশে, প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে, বাঘার পদ্মার চর এখন আর বালুকাময় নয়, পরিণত হচ্ছে শস্যভূমিতে। চাষাবাদ হচ্ছে বিভিন্ন রকমের দানাজাতীয় শস্য। পদ্মার বিস্তৃত চরজুড়ে এ বছর ব্যাপক হারে বাদামের চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি অফিস বলছেন, লক্ষ্যমাত্রা ২৫০ হেক্টরের চেয়ে বেশি জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে।
চরাঞ্চলের মাটিতে পলিপড়ায় বিগত সময়ের চেয়ে এ বছর বাদাম চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বাদাম বিপ্লবের ফলে বালুস্বর্গ এখন সবুজে ছেঁয়ে গেছে। ফসল তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্বিগুন ফলন ও লাভের আশা দেখছেন কৃষকরা।
খুবই বাস্তবতার আলোকে এই বিশ্বাস দৃঢ় হয় যে, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, উপকরণ সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দেয়া গেলে চর এলাকা আরো অনেক ক্ষেত্রেই ‘বালুস্বর্গে’ পরিণত হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ