চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের জন্মদিন আজ

আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বিখ্যাত সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান এর জন্মদিন আজ।
ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট জহির রায়হানের জন্ম। প্রকৃত নাম আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। ডাক নাম ছিল জাফর। রাজনৈতিক মতাদর্শে তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট। সেই সূত্রে ‘জহির রায়হান’ নামটি কমরেড মনি সিং এর দেওয়া। আর এ নামেই বিখ্যাত হয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক কারণে ছাত্র জীবনেই একাধিকবার জেলে গিয়েছেন জহির রায়হান। ‘৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ে জেলে যান। ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরে মিছিল করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি।

এ দেশের বাংলা চলচ্চিত্রে যেসব মেধাবী মানুষ এসেছিলেন জহির রায়হান তাদের অন্যতম একজন। তিনি এখনও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন সৃষ্ট সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের জন্য। তার চলচ্চিত্রগুলো এখনও বিশাল একটা জায়গাজুড়ে আছে বাঙালির মনে। ‘হাজার বছর ধরে’ তার অন্যতম একটি কালজয়ী উপন্যাস।

সংসার জীবনে তার প্রথম স্ত্রী সুমিতা দেবী। এই প্রয়াত অভিনেত্রীর দুই ছেলে বিপুল রায়হান ও অনল রায়হান। দুজনেই নাট্য নির্মাতা। দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী সুচন্দার ছেলে তপু রায়হানও অভিনেতা।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও জীবনমুখি সাহিত্যে জহির রায়হানের অবদান অনেক। ‘কখনো আসেনি’ জহির রায়হান নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র। ‘বাহানা’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’ জহির রায়হান নির্মিত কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্র। মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ আজো ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ।

১৯৫০ সালে তার সাংবাদিক জীবন শুরু। তিনি ‘যুগের আলো’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমা ইত্যাদি পত্রিকাতেও কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে ‘প্রবাহ’ নামের একটি পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্প ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়। ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি তার অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস। এছাড়াও রয়েছে- শেষ বিকেলের মেয়ে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কতদিন, তৃষ্ণা নামে আরো কয়েকটি উপন্যাস।

তিনি তার সাহিত্য জীবনে অনেক পুরস্কার পান। ১৯৬৪ সালে আদমজী পুরস্কার পান। ১৯৭২ সালে বাংলা উপন্যাসে অবদানের জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (মরণোত্তর) দেওয়া হয়। এ ছাড়াও তিনি মরনোত্তর একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

৫০ বছর আগে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি নিরুদ্দেশ হন। মিরপুর ঢাকায় তার ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

তার অন্তর্ধানের দিনটি আজো রহস্য হয়ে আছে। ধারণা করা হয় মিরপুরে বিহারী এলাকায় ছদ্মবেশী পাকিস্তানি সেনাদের গুলির আঘাতে তিনি মারা যান।