চলচ্চিত্রের দুর্দিনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়া

আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০১৭, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


‘ভয়ংকর সুন্দর’ চলচ্চিত্রের নেতিবাচক সমালোচনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন জয়া আহসান। নির্মাণের সময় আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ভয়ংকর সুন্দর’ মুক্তির পর পড়লো সমালোচনার মুখে। এদিকে, সমালোচকদের জবাব দিতে মাঠে নেমেছেন নির্মাতা অনিমেষ আইচের সহকর্মী অভিনেতা-নির্মাতারা।
চলচ্চিত্রটির ফেইসবুক পেইজেও নিয়মিত প্রচার হচ্ছে ইতিবাচক সমালোচনাগুলো। চলচ্চিত্রটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, তৌকির আহমেদ, বিপাশা হায়াত, বন্যা মির্জা, রওনক হাসান, মাসুমা রহমান নাবিলাসহ আরও অনেকে।
এ নির্মাতার প্রথম চলচ্চিত্র ‘জিরো ডিগ্রি’র নায়িকা জয়া আহসান। শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, অনিমেষ আইচের সঙ্গে তার যাত্রা কখনো নির্মাতা কখনো সহ-অভিনেতা হিসেবে। সর্বশেষ, জয়া প্রযোজিত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন অনিমেষ আইচ।
‘ভয়ংকর সুন্দর’ চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগে অডিও অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জয়া বলেছিলেন, “অনিমেষ আইচের সঙ্গে বিভিন্ন সময় অনেক কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কখনো তার পরিচালনায় অভিনয়, কখনো তার বিপরীতে অভিনয়। আগামী ৪ অগাস্ট মুক্তি পাচ্ছে অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘ভয়ংকর সুন্দর’। আমার বিশ্বাস অনেক ভালো হবে সিনেমাটি। ইচ্ছে আছে হলে গিয়ে সিনেমাটির প্রথম শো দেখবো।”
তবে, প্রথম শো দেখতে না পেলেও ‘ভয়ংকর সুন্দর’ মুক্তির পর সমালোচকদের আক্রমণাত্মক বাক্যবাণ জয়াকে সম্প্রতি টেনে নিয়ে গেছে সিনেমা হলে। সিনেমা দেখে ফিরেই তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন। দাঁড়ালেন নির্মাতা অনিমেষ আইচের পাশে। ফেইসবুকে পোস্ট করলেন তার ‘ভয়ংকর সুন্দর’ দেখার অভিজ্ঞতা।
জয়া বলেন, “গত কদিন ধরে বেশ আক্রমণাত্মক লেখা পড়ছিলাম অনিমেষ আইচের ‘ভয়ংকর সুন্দর’ নিয়ে। লেখাগুলো পড়ে ভয়ংকর সুন্দর দেখার তীব্র আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ছবিটি আমি একবারেই দর্শক সিটে বসে দেখেছি এবং দর্শক হয়ে ছবিটি উপভোগ করেছি। দর্শক একই জায়গায় হাসছে, রিঅ্যাক্ট করছে,আবার পুরো হল পিনড্রপ সাইলেন্ট হয়ে যাচ্ছে। দর্শক কমিউনিকেট করতে পারছে। কম্প্যাক্ট একটি সিনেমা।
অনিমেষের প্রথম সিনেমা ‘জিরো ডিগ্রি’তে আমি কাজ করেছিলাম। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় ‘ভয়ংকর সুন্দর’ জিরো ডিগ্রির চেয়েও পরিণত।”
অনিমেষের প্রশংসা করে জয়া বলেন, “অনিমেষ বরাবরই একজন মেধাবী, শক্তিশালী নির্মাতা। সবসময়ই সে শক্তিশালী গল্প বলার সাহস রাখে। এই ছবির মূল নায়ক বা সঞ্চালক ছবিটির গল্প। পানিবিহীন একটি দিন কল্পনা করে দেখুন তো। প্রচলিত বিষয়গুলো এড়িয়ে পানির মতো একটি বিষয়কে উপজীব্য করে ছবি তৈরির সাহস কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন। প্রচলিত গল্প বলার ধরণ থেকে আলাদা করে গল্প বলার চেষ্টাও আছে ছবিটিতে।
এক এক জন নির্মাতার আদর্শ, চিন্তা, গল্প বলার ঢঙ আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। এই ছবিতেও আলাদা করে গল্প বলার চেষ্টা আছে। এক্ষেত্রে নির্মাতা সফল। নতুন কোনো কিছুকে বুঝতে না পারার দায় নির্মাতার নয়। দর্শকেরও নতুনকে গ্রহণের প্রস্তুতি থাকতে হবে।” ছবির দুই প্রধান চরিত্র পরমব্রত-ভাবনারও প্রশংসা ছুটেছে জয়ার মুখে। তবে, প্রশংসাই শুধু নয়, সমালোচনাও এসেছে তার মুখ থেকে, “লাইট, ক্যামেরা মোটামুটি। তবে টেকনিক্যালি বলতে গেলে কালার কারেকশন কনভিন্সিঙ নয়। আর ভালো লাগেনি অনলাইন প্রচারণা। পোস্টার প্রচারণা আরেকটু ভালো হতে পারতো। অনিমেষের কাছে থেকে এটুকু আশা করতেই পারি। ছবিটির প্রথমার্ধ নিয়ে কিছু অবসেরভেশন আছে কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ অবশ্যই আকাঙ্খা তৈরি করে।”
সমালোচকদের নেতিবাচক সমালোচনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জয়া। “আমাদের দেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ কতটা কষ্টসাধ্য তা নির্মাতা বা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিমাত্রই জানেন। এখানে জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ একজন ডিরেক্টরকেই করতে হয়। নানামুখী বাধা পেরিয়ে ছবিটা আলোর মুখ দেখে।
বাহির থেকে নিন্দা-আক্রমণাত্মক কথা বলা এখানে যতটা সহজ, সিনেমা নির্মাণ করা ততটাই কঠিন একটি প্রক্রিয়া। প্রতি বছর দুর্বল গল্প-অভিনয়-রিমেক গল্পের চিত্রনাট্যে প্রচুর সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু সেইসব সিনেমা নিয়ে কাউকে তেমন কিছু বলতে দেখা গেলো না। কিন্তু অনিমেষের এই ‘ভয়ংকর সুন্দর’ নিয়ে এমন আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া আমাকে অবাক করেছে।”
জয়া প্রশ্ন রাখেন, “ ‘ভয়ংকর সুন্দর’ এর প্রোডিউসারও অনিমেষ আইচ। একই সাথে অর্থলগ্নি ও পরিচালনা করা একটি দুঃসাহসিক কাজ। চলচ্চিত্রের এই দুর্দিনে অনিমেষ আইচের এমন পদক্ষেপের জন্য বাহবা পেতে পারে। কিন্তু তা না করে নেগেটিভ প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি চালু হলো। এটা যদি অব্যাহত থাকে- তাহলে কী প্রডিউসারশিপ দাঁড়াবে?”-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ