চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানি নীতিমালা হচ্ছে

আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


‘সাফটা’ চুক্তির আওতায় মানহীন বাংলাদেশি ছবি রফতানির বিপরীতে ভারতীয় আলোচিত ব্লকবাস্টার সিনেমা আমদানি হচ্ছে বেশ কয়েক বছর যাবৎ। এমনকি হলিউড বা অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির ছবিও আমদানি হচ্ছে লাগাম ছাড়া। এ নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। আদালতে মামলাও হয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো আইন কিংবা নীতিমালা ছিল না।
চলচ্চিত্রের মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে সরকার ‘চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানি’ সম্পর্কিত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগির নীতিমালাটি মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাস হবে। এটি করা হচ্ছে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা ২০১৭’র আলোকে। যেটি গত ৩ এপ্রিল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং ১১ জুন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
‘চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানি নীতিমালা’ প্রণয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন।
নীতিমালায় কী কী থাকছে-এমন প্রশ্নের উত্তরে কোনো কথা বলতে রাজি হন নি তিনি। কমিটির সদস্য চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াত শুধু বলেন, ‘নীতিমালায় বাংলাদেশের স্বার্থ যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, তা দেখার চেষ্টা করছি আমরা। একটি ভাল নীতিমালা পাচ্ছি-এতটুকু বলতে পারি।’
তিনি আরো বলেন, ‘রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রধান্য পেয়েছে এমন ছবিকে আমরা প্রধান্য দিব বেশি।’
২৮ আগস্ট কমিটির একটি বৈঠক তথ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে নীতিমালায় কী কী থাকছে তার একটি ধারণা দেন পরিবর্তন ডটকমকে।
আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে একটি কমিটি থাকবে, যারা অনুমোদন দিবেন ছবি আমদানি-রফতানিযোগ্য কিনা। ওই সদস্য বলেন, ‘বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি-নিষেধ ইত্যাদি লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা তা দেখা হবে এবং কমিটি থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছবি রফতানির ক্ষেত্রে আমরা প্রথমে সেটির মান দেখব। এরপর দেখব সেটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে কিনা এবং ছবিটি দিয়ে বিদেশের মাটিতে আমাদের চলচ্চিত্রের বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হবে কিনা।’
বছরে ছবি আমদানি-রফতানি সুনির্দিষ্টসংখ্যক করে দেওয়া হবে কিনা? ‘না এরকম কিছু করা হবে না। আমরা প্রথমত চাইব আগে দেশে মানসম্পন্ন ছবি উৎপাদন বাড়ুক। এরপর ওইসব ছবি রফতানি হয়ে বিদেশে আমাদের বাজার সৃষ্টি হোক।’
আমদানির ক্ষেত্রে অবশ্য বাংলাদেশ থেকে সমান সংখ্যক ছবি রফতানি করতে হবে বলে জানান ওই সদস্য। একই সাথে আমদানিকরা ছবিগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চহারে কর প্রদান করতে হবে। তবে কী কী কর দিতে হবে, কত শতাংশ করে তা ‘চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানি নীতিমালা’তে থাকছে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এটা তো বাণিজ্য মন্ত্রাণলয়ের কাজ। তারা আলাদা নীতিমালা করে চলচ্চিত্র আমদানি-রফতানির জন্য কত শতাংশ কর দিতে হবে তা নির্ধারণ করবেন।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ