চলচ্চিত্র নীতিমালা ২০১৭ || চলচ্চিত্রের সুষ্ঠু ধারাই প্রত্যাশা

আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

চলচ্চিত্রকে সমাজের দর্পন বলা হয়। চলচ্চিত্র শুধুই বিনোদনের মাধ্যম নয়Ñ এটি মানুষের সামগ্রিক জীবনকে প্রভাবিত করে। সাহস, স্বপ্ন ও ভালবাসায় অনুপ্রাণিত করতে পারে সুস্থ ধারার চলচ্ছিত্র। কেননা চলচ্ছিত্রে মানুষের সামগ্রি জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-ভালবাসা, সেীহার্দ-সম্প্রীতি, প্রতিবাদ- দ্রোহের প্রতিফলন ঘটে বা সুযোগ থাকে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও মূল্যবোধ জাগরিত করা যায়। অন্যদিকে সস্তা ও চমকদায়ী চলচ্চিত্র দর্শকের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও বিকৃত মানসিকতাকে উৎসাহিত করে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বর্তমানে এক দুঃসহ সময় পার করছে। কিছু উদাহরণ বাদ দিলে প্রায় সব চলচ্চিত্রই স্থুলমানসিকতার। এসব চলচ্চিত্রের সাথে দেশের মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি. আবেগ- অনুভুতি, পোশাক-পরিচ্ছদ ও রুচিবোধের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় এস চলচ্চিত্র তরুণ সমাজকে বিকৃত মানসিকতার দিকে নিয়ে যেতে সহায়ক হচ্ছে। এ ধরনের চলচ্চিত্র তরুণদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা, নারী ও শিশুর প্রতি দায়িত্বহীন আচরণ এবং সর্বোপরি অবক্ষয়িত মূল্যবোধের দিকে তাড়িত করছেÑ যা সত্যিকতার অর্থেই সামাজিক অস্থিরতায় উস্কানি যোগাচ্ছে।
বর্তমান সরকার চলচ্চিত্রের ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর দিকটি চিহ্নিত করতে পেরেছে এটা সুখের কথা। চলচ্চিত্রে সরাসরি ধর্ষণের দৃশ্যসহ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্যমূলক আচরণ বা হয়রানিমূলক কর্মকা-কে উদ্বুদ্ধ করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে নতুন নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। কিন্তু নীতিমালা যেন তথ্যের অবাধ প্রবাহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা জন্য না হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা- ২০১৭ অনুমোদন দেয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
চলচ্চিত্র নীতিমালা প্রসঙ্গে সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, কোনো অশোভন উক্তি, আচরণ এবং অপরাধীদের কার্যকলাপের কৌশল প্রদর্শন, যা অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন ও মাত্রা আনতে সহায়ক হতে পারে, এমন দৃশ্য পরিহার করতে হবে। চলচ্চিত্রে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করা যাবে না।
সুস্থ, শিক্ষামূলক ও বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ, বিতরণ ও প্রদর্শন করতে সরকারি এবং বেরকারি পর্যায়ে নীতিগত ও অবকাঠামোগত ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
সরকারের এই নীতিমালাকে আমরা স্বাগত জানাই ও প্রশংসা করি। কিন্তু এই নীতিমালার দেশে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং বিকৃত বা অপরাধ সংগঠনে উৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে এমন চলচ্চিত্র দেখা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে নাÑ যদি না সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া হয়। ভারতীয় চলচ্চিত্র ও চ্যানেল যে গুলো বাংলাদেশে সম্প্রচার হয়- সেগুলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মান নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। কোনো কোনো চ্যানেলের প্রোগ্রাম সমাজ-বাস্তবতার একেবারে বিপরীতমূখি। এসব চ্যানেল নতুন নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশে প্রচারযোগ্য কি না সেটাও ভেবে দেখা দরকার। আজকের সমাজে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি, নারীকে অবজ্ঞা ও ছোট করে দেখানোর উপাদান চলচ্চিত্র ও চ্যানেলের নাটকগুলোতে রয়েছে। নিঃসন্দেহে এসব প্রদর্শন নারীর প্রতি সহিংসতায় তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে থাকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ