চলনবিলের মাছ যাচ্ছে ২০ জেলায়

আপডেট: জুলাই ২৭, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


চলনবিলের সবচেয়ে বড় আড়ৎ সিংড়া মৎস্য আড়ৎ। এখানে প্রতিদিন দুই কোটি টাকার মাছ আমদানি-রফতানি হয় -সোনার দেশ

নাটোরের সিংড়া মৎস্য আড়ৎ। চলনবিল নাটোর জেলার সবচেয়ে বড় আড়ৎ এটি। প্রতিদিন দুই কোটি টাকার মাছ আমদানি-রফতানি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এখানে আসেন মাছ কিনতে। কাকডাকা ভোরে চলনবিলের মাছ চলে যায় দেশের প্রায় ২০ জেলায়। ভোর হতেই আড়ৎ সরগরম হয়ে উঠে। হাকডাক চারিদিকে, সবাই ব্যস্ত পছন্দের মাছ কেনা নিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের সর্ববৃহৎ মাছের আড়ৎ সিংড়া। সম্প্রতি স্থানীয় সাংসদ প্রতিমন্ত্রী এ মাছের আড়তকে ফরমালিন মুক্ত বাজার হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আসেন চলনবিলের মাছ নিতে। পাইকাররা জানান, এখানে থাকার হোটেল না থাকায় নাটোরে থাকতে হয়, ভোরে এসে বাজার ধরতে হয়। তাছাড়া অন্য কোন সমস্যা নাই। কোন অতিরিক্ত চাঁদা দিতে হয় না। এদিকে চৌগ্রামেও মৎস্য আড়ৎ রয়েছে, যেখানে ও তারা মাছ কিনেন বলে জানান।
স্থানীয়রা জানান, সিংড়ায় হ্যাচারি গড়ে না উঠায় তারা পোনা মাছ সরবরাহ ঠিকমতো পান না। এজন্য হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি বলে তারা জানান।
জানতে চাইলে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, চলনবিল মৎস্য সম্পদ এলাকা। এলাকায় ১৩টি বিল নার্সারির প্রকল্প চলমান রয়েছে। এতে করে আগামীতে মাছের উৎপাদন আরো বাড়বে বলে তিনি জানান। তাছাড়া তিনটি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। যেখানে মা মাছ সংরক্ষণ এবং পোনা ছাড়ে। চলনবিল মূলত মৎস্য আহরণ এবং সংরক্ষণ এলাকা।
এ বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চলনবিল বাংলাদেশের বৃহৎ বিল। এখানে প্রায় ৭ হাজার জেলে রয়েছেন। তাছাড়া মৎস্য চাষে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার। চলনবিলের মাছ দেশের চাহিদা পূরণ করছে। সিংড়ায় ১৪ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। ওই এলাকায় চাহিদা ৮ হাজার মেট্রিক টন। যা আমাদের জন্য গর্বের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ