চলনবিলে অকাল বন্যায় ডুবছে ধান || ভেসে গেছে মাছ

আপডেট: এপ্রিল ২৬, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


চলনবিলে ক্ষতিগ্রস্থ ধান খেতে একাংশ- সোনার দেশ

উত্তরের ঢলগড়া ও ওপর বর্ষণের পানি এবং আগাম বন্যার ফলে চলনবিলের ব্যাপক এলাকার উঠতি বোরোধান খেত তলিয়ে গেছে। শেষ রক্ষা পেতে কাঁচা-আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। এদিকে একই সঙ্গে শ্রমিক সঙ্কট দেখা দেয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বৃহত্তর চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিলশার বেশানী নদীর উত্তর মাঠের বিলটেবিগাড়ি, দিয়ারভিটা, ছারুখালি ও বোগানালী ছাড়াও পশ্চিম মাঠের কাউয়াটিকিরি, সরিষাবাড়ি, ডাহিয়া, বেড়াবাড়ি,তিষাখালি, ভেটুয়া এবং রুহাইয়ের উত্তর-পশ্চিম এলাকা জুড়ে টানা ওপর বর্ষন ও আগাম বন্যার পানিতে প্রায় ৫ হাজার একর জমির পাকা-আধাপাকা বোরো ধান ছাড়াও ভুট্টার জমিতে পানি জমি গেছে।
উঠতি ফসল কোন মতে ঘরে তোলার জন্য এলাকার কৃষকরা পানির মধ্যেই শ্রমিক লাগিয়ে কাঁচা-পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। এলাকায় কোন শ্রমিক না থাকায় পাশ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করে বিঘা প্রতি ৪-৫ মণ করে ধান দেওয়ার চুক্তিতে জমি থেকে ধান কাটাচ্ছেন তারা।
এলাকার কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, অকাল বন্যা আর ওপর বর্ষণের কারণে এলাকার অসহায় কৃষকরা উঠতি ফসল থেকে বঞ্চিত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পুনরায় ওপর বর্ষণ হলে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।
অপর কৃষক ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জিল্লুর রহমান বলেন, চলনবিলের এই শস্যভরা মাঠ থেকে আমরা সারা বছরের খাবার ঘরে তুলতাম। কিন্তু এ বছরে অকাল বন্যায় আমাদের সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ফসলের সাথে এলাকার অন্ততপক্ষে ১৫টি পুকুর ও ক্যানেলে চাষিদের মাছ ভেসে গেছে। এতে করে এলাকার মাছ চাষি ও মৎসজীবি সম্প্রদায় হয়ে পড়েছে হতাশাগ্রস্ত।
খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন জানান, আকস্মিক আগাম বন্যায় এলাকার উঠতি ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তা কোন দিনই পূরণ হবার নয়। শস্যভাণ্ডার বলে খ্যাত চলনবিলের ফসলহানী এলাকায় বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম বলেন, অকাল বন্যায় প্লাবিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হবে।