চলন্ত বাসে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’: ছেলের শাস্তি চান মা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭, ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চলন্ত বাসে ‘ধর্ষণের পর’ হত্যার ঘটনায় দোষী হলে নিজের ছেলেরও শাস্তি চেয়েছেন গ্রেপ্তার বাস চালকের এক সহকারীর মা জাহানারা বেগম।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউবা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে দোষী হলে তারা স্বজন হলেও তার শাস্তির দাবি করেন।
এ পাঁচজন হলেন বাসের চালক হাবিবুর রহমান (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫), সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯)।
হাবিব, সফর আলী, আকরাম ও জাহাঙ্গীর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। শামীমের বাড়ি জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার নন্দীপুর গ্রামে।
চালক হাবিবুর রহমানের মা জাহানারা বেগম বলেন, “আমার ছেলে এমন কাজ করতে পারে তা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারতেছি না। দুই ছেলে আর এক মেয়েকে রেখে ২০ বছর আগে আমার স্বামী মারা যান। সন্তানদের বড় করতে খুব কষ্ট হইছে।
“কিন্তু আমার এই সন্তান এমন ঘটনা ঘটাবে তা কোনোদিন ভাবিনি।” কথাগুলো বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
জাহাঙ্গীরের মা জাহানারা আক্তার বলেন, “যদি আমার পোলা এমন কর্ম কইরা থাকে তাহলে তার যে শাস্তি হবে আমরা তা মেনে নিব।”
আকরাম ও সফর আলী সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবারের সদস্য কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম সোহাগ বলেন, “যদি তারা এমন কর্মকাণ্ড করে থাকে, তাহলে তাদের দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিচার হওয়া উচিত। এ ঘটনায় আমাদের ইউনিয়ন কলঙ্কিত হয়েছে।”
ময়মনসিংহ-বগুড়া পথে চলাচলকারী ছোঁয়া পরিবহনের ওই বাসের মালিক আমেনা খাতুন এই ‘ন্যক্কারজনক’ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে করে গত ২৫ অগাস্ট রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বাসের কর্মচারীরা রূপাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে রাস্তার পাশে লাশ ফেলে যায়।
টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় ওই তরুণীর লাশ পাওয়ার পর হত্যার আলামত থাকায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে মধুপুর পুলিশ। কিন্তু পরিচয় জানতে না পারায় ময়নাতদন্ত শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়।
গণমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করে তার পরিবার। পরে রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
রূপার বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে। ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে পড়ালেখা করার পাশাপাশি একটি কোম্পানির প্রোমশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন তিনি। তার কর্মস্থল ছিল ময়মনসিংহ জেলা সদরে।
বৃহস্পতিবার তার লাশ কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ