চলেই গেলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর

আপডেট: July 7, 2020, 12:08 am

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বুকে বাইবেল রেখেই তিনি চলে গেলেন-সোনার দেশ

‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’- কিছুদিন আগে হুইলচেয়ারে চেপে মঞ্চে উঠে এই গানটি শুনিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। গাইবার সময় তিনি নিজে যেমন কেঁদেছিলেন, কাঁদিয়েছেন শ্রোতাদেরকেও। এর সবকিছু স্মৃতিতে মুড়ে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। নগরীর মহিষবাথান এলাকায় অবস্থিত বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। এন্ড্রু কিশোরের বড় বোনের স্বামী ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুরে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দিলেও ক্যানসার দূর হয়নি। চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাই এন্ড্রু কিশোরের ইচ্ছায় তাকে দেশে আনা হয়। এরপর থেকে বোনের বাসায় ছিলেন। এটি ক্লিনিকও। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

 

 

 

 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে এন্ড্রু কিশোরের দেহে ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করেও ক্যানসার নির্মুল হয়নি তার। চিকিৎসক হাল ছেড়ে দেয়ায় গত ১১ জুন ক্যানসার নিয়েই ফিরতে হয়েছে দেশে। তারপর থেকেই ছিলেন রাজশাহীতে। রোববার থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
দীর্ঘদিন থেকে তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

 

এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এন্ড্রু কিশোর-ইতি দম্পতির দুই সন্তান। দুজনই অস্ট্রেলিয়া থাকেন। মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা সিডনিতে গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক মেলবোর্নে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা করছেন। দুজনই দুই একদিনের মধ্যে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। এ পর্যন্ত রামেক এর হিমাগারে রাখা হবে। ৬ নভেম্বর তার বয়স হবে ৬৫ বছর। ২- ৩ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জেলখানার পিছনে সার্কিট হাউজের পাশে। খ্রিস্টিয়ান গ্রিফিয়াস হাউজে দাফন করা হবে। তিনি ১ বছর আগে তার কবরস্থনের জায়গা টিক করে গেছেন।
টানা ৯ মাস সিঙ্গাপুরে ক্যানসারে চিকিৎসাধীন থেকে গত ১১ জুন একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তারপর থেকে রাজশাহীতে বসবাস করেছেন।

 

এর আগে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন এই নন্দিত গায়ক। সেখানে গিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে ছিলেন তিনি। চলে টানা কয়েকমাসের কেমোথেরাপি।