চাঁদা না দেওয়ায় লালপুরে কলেজ শিক্ষক হত্যা!

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


চাঁদা না দেওয়াতেই কলেজ শিক্ষক মোশাররফ হোসেন খুন হয়েছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। গত শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়া কলেজ শিক্ষকের ছোট ভাই মোফাজ্জল হোসেন তুহিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে লালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে দুইদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারে নি পুলিশ।
পীরগাছা গ্রামের রবিউল ইসলাম, তানভীর আল ইসলাম মিঠু, নবাব হোসেন বলেন, নিহত শিক্ষক আমাদের খুব কাছের মানুষ ছিলেন। তার কর্মরত এলাকায় কিছু ছেলেরা তার কাছে মাসিক চাঁদা চাইতো। এই চাঁদা তিনি দিতে না চাওয়ায় তাকে খুন করা হতে পারে।
নিহত শিক্ষকের বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে আমার ছেলের মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে কে যেন বিরক্ত করছিল। ছেলে ওই নম্বরটি ব্লাকলিস্ট করে দিয়েছিলো। তবে বর্তমানে নম্বরটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই রাগেই আমার ছেলেকে খুন করা হতে পারে।’
এর আগে নাটোরের লালপুর উপজেলার বাদলিবাড়ি নামকস্থানে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মোহরকয়া ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে (৪২) দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মোশারফ হোসেন বাঘা উপজেলার পীরগাছা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
এরপর কলেজের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। এই বিক্ষোভ মিছিলটি মহরকয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে শুরু করে মহরকয়া বাজার, বিলমাড়িয়া বাজার, মিলমাড়িয়া-লালপুর সড়ক হয়ে কয়লা ডহর দিয়ে পুনরায় মহরকয়া বাজারে সমাবশে মিলত হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন অংশগ্রহণ করেন। অতি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। আগামী সোমবার জেলা শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে এই সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয়।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে গেলে নিহতের স্ত্রী আয়সা বেগম রিমা বলেন, দুই সন্তানকে কাছে নিয়ে নিহত শিক্ষকের স্ত্রী স্বামীর ছবি হাতে নিয়ে শুধু কাদছে। এই কান্না যেন থামছে না। আমার স্বামীর কারো সাথে শত্রু ছিল না। কেন কি কারণে খুন হতে হলো আমার জান নেই। ফ্লাট বাড়ি দেয়ার বিষয়ে তিনদিন আগে কথা হয়েছিল। কিন্তু বাড়ি দেয়া আর হলো না। তার আগেই সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে কেড়ে নিল। আমার স্বামীর হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে বিচার চাই।
নিহতের ভগ্নিপ্রতি লোকমান হোসেন নাটোর সদর হাসাপাতালের পোস্ট মর্ডেম করা চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদের বরাত দিয়ে বলেন, বাঁম হাতের বগলির নিচে একটি চায়না পিস্তলের গুলি ভেতরে ছিল। এইগুলি মেরুদ-ের ১২ নম্বর হাড়ের মধ্যে থেকে বের করা হয়েছে। এই গুলির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তার নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু ওবায়েদ বলেন, এই বিষয়ে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নি। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকারীদের চিহৃত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।