চাঁদা না পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর যুবলীগ নেতার

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২০, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীতে চাঁদা না দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১ টায় নগরীর মেহেরচন্ডী দায়রাপাক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত ওই মুক্তিযোদ্ধাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ উদ্দিনের স্বজনরা জানায়, বছর খানেক পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা একেএম ওয়াহেদ উদ্দিন (৬৩) মেহেরচন্ডী দায়রাপাক এলাকার স্থানীয় রাসেল নামক এক ব্যক্তির মায়ের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। এ বছরের শুরুতে ওয়াহেদ উদ্দিনের বাড়ি করার কথা। এ প্রসঙ্গে রাসেলের চাচা স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি আসাদ বিভিন্নভাবে চাঁদা চেয়ে আসছিলেন। চাঁদা না দেয়ায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ উদ্দিন বাড়ি নির্মাণের ইট কিনে ট্রাকে করে নামানোর সময় রাসেল এবং তার চাচা আসাদ বাধা দেয়। এ সময় তারা ইট না নেয়ায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে ও তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে মারধর শুরু করে। এসময় আহত হন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে নাহিন ইসলামও।
নাহিন ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি আসাদ ইট যেন তাদের কাছেই নেয়া হয় বলে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। অথচ তার বলার আগেই আমাদের ইট কেনা হয়েছে অন্য জায়গা থেকে। তাদের কাছে কেন ইট নেয়া হয়নি এই বলে সকালে আমাদের কাছে এসে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমার বাবা সে টাকা দিতে না চাইলে বাবাকে ও মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। আমি তাতে বাধা দিতে গেলে আমাকেও তারা মারধর করে। এতে আমার বাবার নাক দিয়ে অনর্গল রক্ত পড়তে থাকে।
তিনি আরও বলেন, রাসেল ও আসাদের এ ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। মুহূর্তের মধ্যে ফোন করে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন লোক যোগাড় করে যাদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাবাকে ছুরিকাঘাত করার সময় বাধা দিতে গেলে আমার হাত কেটে যায়। বর্তমানে আমার বাবা রামেক হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।
তবে এ বিষয়ে যুবলীগ সভাপতি আসাদের বক্তব্য নেয়ার জন্য ফোন দেয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ উদ্দিন বাদী হয়ে চন্দ্রিমা থানায় চাঁদাবাজি ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে যুবলীগ সভাপতি আসাদকে মূল আসামি মামলা দায়ের করেন।
চন্দ্রিমা থানার ওসি সিরাজুম মুনীর বলেন, চাঁদাবাজি ও হত্যার চেষ্টায় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছি।