চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে মাস্কের ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ রকেট

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২২, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে ইলন মাস্কের বাণিজ্যিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের তৈরি একটি ফ্যালকন ৯ বুস্টার রকেট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আছড়ে পড়ার পর বিস্ফোরিত হবে রকেটটি। চাঁদের বুকে মানব সৃষ্ট কোনো বস্তুর অনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের প্রথম ঘটনা হতে যাচ্ছে এটি।

ফ্যালকন ৯ বুস্টার রকেটটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ২০১৫ সালে। কিন্তু মিশন শেষে পৃথিবীতে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানী ছিল না রকেটটিতে। ফলে সাত বছর ধরে মহাকাশেই পরিত্যাক্ত অবস্থায় ভাসছিল এটি।
মহাকাশরচারীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এটি চাঁদের বুকে মানব সৃষ্ট কোনো বস্তুর অনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের প্রথম ঘটনা হতে চললেও এর বড় কোনো বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা নেই।

২০১৫ সাল থেকে চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টানের প্রভাবে রকেটটির আচরণ ও গতিপথ উভয়ই ছিল অপ্রত্যাশিত। রকেটটির বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করে ‘হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’-এর গবেষক প্রফেসর ম্যাকডাওয়েল বলছেন, “এটা আগেই মরে গেছে – কেবল মাধ্যাকর্ষণের নিয়ম মেনে চলছে এখন।”

মহাকাশ অভিযানে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ অভিযান শেষে মহাকাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়ে যাওয়ার প্রথম ঘটনা নয় এটি। এমন অন্তত কয়েক লাখ যন্ত্রাংশ বা রকেট গন্তব্যহীন হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে পৃথিবী ঘিরে।
“টানা কয়েক দশকে আমরা অন্তত এমন ৫০টি বড় বস্তুর খোঁজ হারিয়েছি। এমনটা (চাঁদে মানব সৃষ্ট বস্তু বিধ্বস্ত হওয়া) হয়তো আগে কয়েক বার হয়েছে, কিন্তু আমরা টের পাইনি। এটাই প্রথম নিশ্চিত ঘটনা।”– বলেন প্রফেসর ম্যাকডাওয়েল।

ফ্যালকন ৯ বুস্টার রকেটটি যে চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে, সে বিষয়টি উৎঘাটন করেছেন আর্স টেকনিকার সংবাদকর্মী এরিক বার্জার ও ডেটা বিশ্লেষক বিল গ্রে। তাদের হিসাব অনুযায়ী ৪ মার্চ চাঁদের বুকে বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে রকেটটি।

ম্যাকডাওয়েল বলছেন, “এটা আসলে চার টনের একটা ফাঁপা ধাতব ট্যাংক। আপনি যদি ঘণ্টায় পাঁচ হাজার মাইল গতিতে পাথর ছুড়ে মারার কথা ভাবেন, তবে শেষটা যে ভালো হবে না সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।” চাঁদের বুকে রকেটটি কৃত্রিম গিরিখাদ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, ২০০৯ সালেই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে চাঁদে একই আকৃতির একটি রকেট ধ্বংস করেছিলেন ম্যাকডাওয়েল ও তার সহকর্মীরা। সেবার রকেটের সেন্সর থেকে বিপুল পরিমাণ ডেটাও সংগ্রহ করেছিলেন তারা। তাই এবার স্পেসএক্স রকেটটির বিধ্বস্ত হওয়ার সময় নতুন কিছু জানার আশাও করছেন না গবেষকরা।

গেল কয়েক দশকে মহাকাশে বেড়েছে মানব সৃষ্ট বর্জ্যের পরিমাণ। এর বেশিরভাগ গন্তব্যহীনভাবে পৃথিবীকে ঘিরে চক্কর দিচ্ছে অথবা মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। আপাতত ওই বর্জ্যের কারণে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও ভবিষ্যত ভিন্ন হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ম্যাকডাওয়েল।- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ