চাঁপাইনবাবগঞ্জের গাছে আম, চলছে নামার প্রস্তুতি

আপডেট: মে ২২, ২০২২, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


জৈষ্ঠ্য মাস, মধু মাস। সাধারণত এসময় থেকে শুরু হয় আম পাকা। প্রাকৃতিক নিয়মে আম যখনই পাকা শুরু করবে তখন থেকে পাড়া শুরু হবে। তাই এবার আমপাড়ার সময় বেঁধে দেয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রশাসন। আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে আগামী সপ্তাহে পরিপক্ক গাছ পাকা সুমিষ্ট আম আসতে শুরু করবে।

আগাম জাতের পাকা আমের মিষ্টি সুগন্ধে ভরে উঠবে বাজারগুলো। এ সময় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানমালিক ও চাষিরা। আমবাজারগুলোয় আড়ত তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে। সেইসাথে এ জেলার সুমিষ্ট আম খাওয়া আর নিয়ে যাবার প্রহর গুনছেন ভোজনবিলাসীরা।

কৃষিবিভাগ বলছে, আমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা খুবই কম। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। প্রায় ৩১-৩২ লাখ গাছে চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগ আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর জেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আড়াই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়।

জানা গেছে, জেলার বড় বড় গাছে তেমন আম না ধরলেও তুলনামূলক ছোট ছোট গাছগুলোতে আম ধরেছে। গত ২ সপ্তাহ আগে কয়েকদফা বৃষ্টির সুবাদে আমের আকার অনেকাংশে বড় হয়ে গেছে। বর্তমানে জেলার আমবাগানগুলোতে গোপালভোগসহ বিভিন্ন গুটিজাতের আম বড় হয়ে পরিপক্কতা পেতে শুরু করেছে।

আশা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করবে পাকা আম। তবে ক্ষিরসাপাত আম পরিপক্কতা পেতে আরো কিছু সময় লাগবে। ইতোমধ্যে জেলা শহরের সদরঘাট ও তহাবাজার, ভোলাহাট, শিবগঞ্জ ও কানসাট আমবাজার এবং রহনপুর বাজারের মোকামগুলো প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। বাগানে বাগানে বসেছে আম পাড়া ও বাজারজাত করার ঘর। এ অঞ্চলের মানুষ প্রধান অর্থকরী ফসল আমকে ঘিরেই জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

আমের অফ ইয়ার হলেও এ মৌসুমে আম নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই। কানসাটের আমচাষি জহির উদ্দিন জানান, দেরিতে আমের গুটি আসলেও এবার আমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কম। কারণ অনেক আম গাছে আম এসেছে। এরপরও এ অঞ্চলের আমের চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী।

অনেক আত্মীয় স্বজন বায়না ধরেছে আম খাবে আর নিয়ে যাবে। আবার অনেকেই বাগান দেখতে চাইছে, সেটি স্বচক্ষে দেখার জন্য অধীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ছত্রাজিতপুরের আমবাগান মালিক মোঃ গোলাম রাব্বানী জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে বাগানে এবারও আম এসেছে। সময় মত বৃষ্টি হওয়ায় ভাল ফলনের আশা করছেন।

ফলের মৌসুম হচ্ছে জৈষ্ঠ্য মাস, আর এ মাসে প্রাকৃতিক নিয়মে আম পরিপক্ক হয়ে ওঠে। আর এ কারণে আম পাড়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেনি প্রশাসন। কারণ প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস তৈরী হয়েছে বাগান মালিক আর কৃষকদের প্রতি। এ অঞ্চলের কৃষকরা বাজার নষ্ট করবে না অপরিপক্ক আম নামাতে। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলে নিরাপদ আম উৎপাদন হচ্ছে, এ আমগুলো বিদেশে রফতানি করতে পারলে অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, আবহাওয়া তারতম্যের কারণে আম কিছুটা দেরীতে পাকছে। ২২-২৫ মের মধ্যে বাজারে আম আসা শুরু করবে।

এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা না দিলে উৎপাদনে তেমন কোন প্রভাব পড়বেনা। আমের গুটি দেরিতে আসলেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সময়ের ব্যবধানে আমের আকার অনেকটা বড় হয়েছে। সারা দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের সুনাম রয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে আগাম জাতের পক্ত গুটি আম বাজারে নামবে, সেটি হবে সুমিষ্ট ও সুস্বাদু।