চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর মহানন্দা সেতু ঝুঁকির মুখে

আপডেট: মে ২২, ২০২২, ৬:৪২ অপরাহ্ণ

সাজেদুল হক সাজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:


ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি ওজনের পণ্যবাহী যান চলাচলের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু। সেতুর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহন না করলে আরও বড় ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে।

তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান সওজ এক প্রকোশলী জানান, অতিরিক্ত লোডের যান চলাচল করায় সেতুটির আয়ুষ্কাল কমে গেছে। তবে যে হারে ভারি যানবাহন চলাচল করছে তাতে যে কোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমাদানি ও রপ্তানি কারক গ্রুপের সভাপতি আতাউর রহমান রাজু জানান, নব্বইয়ের দশকে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত হয় ৪৪৮ দশমিক ৩ মিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-চীন তৃতীয় মৈত্রী সেতু। এ সেতুই সড়কপথে সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে দেশের অন্য প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। কয়েক বছর আগে ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র বসানো হলেও তা ২৫ দিনের মাথায় নষ্ট হয়ে যায়। সেই থেকে যন্ত্রটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর। এই বন্দর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশের একমাত্র পথ হচ্ছে রেহাইচর বারোঘরিয়া এলাকায় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো সোনামসজিদ বন্দর থেকে আসা পণ্যবোঝাই ট্রাক। এই ট্রাকগুলোর ওজন নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো ওজন পরিমাপক। ফলে অতিরিক্ত পণ্য নিয়েই দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক পার হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ধারণক্ষমতা ৩০ টন, কিন্তু সেতুটি দিয়ে পার হচ্ছে ৭০-৮০ টনের ভারী ট্রাক। ফলে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুটির ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক পার হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে স্বীকার করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সোনামসজিদ স্থল বন্দর সিএনএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ জানান, ১৯৯৩ সালে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মহানন্দা নদীর ওপর নির্মাণ করে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ সড়কের এ সেতুর ধারণক্ষমতা ৩০ টন নির্ধারণ করেছে সড়ক বিভাগ।

বারোঘরিয়া চত্বরের দোকানি মানিক চন্দ্র দাস। তিনি এক দশক ধরে সেতুটির পাশে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, এই সেতু দিয়ে ১২ চাকা, ১৮ চাকার পাথরবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। এমনকি মাঝেমধ্যে পাথরভর্তি ২২ চাকার ভারী ট্রাকও যায়। সেতুটি নির্মাণের পর সোনামসজিদ পোর্ট চালু হয়। এরপর থেকেই সেতু দিয়ে ভারী ট্রাক যাতায়াত করছে। ফলে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ঝুঁকিতে পড়বে সেতুটি।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে একটি পাথরবাহী ট্রাক। ট্রাকটি এসে সেতুতে টোল দেয়ার জন্য দাঁড়ালে কত টন পাথর আছে এমন প্রশ্নে অবাক হন চালক। ইনিয়ে-বিনিয়ে নাম প্রকাশে ইচ্ছুক না এক ট্রাকচালক বলেন, ট্রাকটিতে ৩০-৩৫ টন পাথর আছে।

এ সময় ওই ট্রাকচালকের কাছে পাথর বোঝাইয়ের রসিদ দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। ট্রাকচালক বলেন, ‘সরকার তো আমাদের তেমন কিছুই বলেনি। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এ সেতু দিয়ে তো আরও অনেক ভারী ট্রাক যাতায়াত করে, তাদের গিয়ে প্রশ্ন করেন। এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’

জানা গেছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পরিবহনের চাপ বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গার যাদুপুর থেকে নয়াগলার খেয়াঘাট পর্যন্ত বিকল্প সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু আশ্বাসটি অধরাই থেকে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরীন ঝিনুক বলেন, মহানন্দা সেতু দিয়ে অতিরিক্ত ওজনের যান চলাচল করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে খুব শিগগির শিবগঞ্জের কয়লাবাড়ি এলাকায় ওজন পরিমাপক যন্ত্র বসানো হবে। ভূমি অধিগ্রহণ করাও হয়ে গেছে। যদি এই উদ্যোগটি সফল হয়, তবে এ সেতু দিয়ে আর কোনো অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচল করবে না বলে আশা করছেন তিনি। এছাড়া বিকল্প সেতু নির্মাণের প্রকল্পও আলোর মুখ দেখবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ