চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ কাস্টমসে ১৩৪ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০২২, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ

মো. সাজেদুল হক সাজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ :


চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ কাস্টম হাউজের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৪ কোটি টাকার বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছে, এলসি সংকটের সমাধান, স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে বিরাজমান সমস্যার জন্য রাজস্ব আদায় কমেছে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কমেছে ভারত থেকে পণ্য আমদানি। আর আমদানি কমায় রাজস্ব আদায়ে এর প্রভাব পড়েছে।

জানা যায়, ভারতের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছিল এ স্থলবন্দরটি। তবে সম্প্রতি আমদানি-রফতানি কম হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে শুল্ক কর্তৃপক্ষ।

সোনামসজিদ কাস্টম হাউজের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। সেখানে কাস্টমস রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ২০২ কোটি ৫৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩৪ কোটি ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরের তুলনায় ২০৮ কোটি ৫৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১০৩৭ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার টাকা। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৪২ কোটি ৩১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল।

গত অর্থবছরে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৮২৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল স্থলবন্দর কাস্টমস। এর বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯৭১ কোটি ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, সোনামসজিদ শুল্ক বিভাগের কড়াকড়ি ও স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে আমদানিকারকরা বন্দর ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন অন্য বন্দরে। ফলে এ স্থলবন্দরের প্রধান দুই আমদানি পণ্য পাথর ও ফল আমদানি অস্বাভাবিকহারে কমে গেছে।

সোনামসজিদ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, এতদিন ফলসহ পচনশীল সব ধরনের পণ্য আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক ছাড় পেতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বর্তমানে সেটি বন্ধ করে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এতে সোনামসজিদ বন্দর ব্যবহার না করে ব্যবসায়ীরা যশোরের বেনাপল, সাতক্ষীরার ভোমরা ও দিনাজপুরের হিলি বন্দরে চলে গেছেন। কারণ ওই তিন বন্দরে শুল্ক ছাড় পাচ্ছেন আমদানিকারকরা।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের পোর্ট ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর মূলত আমদানিনির্ভর বন্দর। তবে চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন কারণে আমদানির পরিমাণ কমেছে। ভারতে তাদের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যাসহ নানা কারণে আমদানি কমতে পারে। চলতি মাসে গত ৪ মাসের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য আমদানি কমেছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত বলেন, পণ্য আমদানি কমায় স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব কম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এই বন্দরে আমদানি কমেছে বলে আমাদের ধারণা। তবে অনুকূল পরিবেশ থাকলে আগামী কয়েক মাসে আমদানি বাড়লে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।