চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাম্পার ফলন আড়ৎদারদের সিন্ডিকেট ৫২ কেজিতে মণ, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা হতাশ

আপডেট: জুন ১৯, ২০২১, ১০:২৯ অপরাহ্ণ

সাজেদুল হক সাজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:


আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে আমের ভরা মৌসুম। ক্রেতা ও বিক্রেতার ভিড়ে বাজার সরগরম। তবে বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। কেননা আড়ৎদারদের সিন্ডিকেট ৫২ কেজিতে মণ দরে আম বিক্রি করতে বাধ্য করছে। প্রকাশ্যে ওজনের এ কারচুপি করা হলেও প্রশাসন নিরবে ঘুমাচ্ছে। তবে বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা ৪০ কেজিতে মণ দরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রয় করছে। বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীদের এ করুণ পরিণতি আগামী দিনে আম ব্যবসাকে স্থবির করবে।
সংশি¬ষ্টরা বলছেন, প্রতিবছরই আমের বাগান বাড়ছে, ফলে বাড়ছে ফলনও। তাই আমের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে বাড়াতে হবে আমের বহুমুখি ব্যবহার, আর তা করতে না পারলে ভাল ফলনেও ফুটবে না আম চাষীর মুখে হাসি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে বড় ও সারা দেশের মধ্যে বৃহৎ আম বাজারের তকমা গায়ে জড়ানো শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আম বাজারে শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বাই সাইকেল ও ভ্যানে করে আম নিয়ে আসছেন আম ব্যবসায়ীরা। কানসাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে আম বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভাল মানের হিমসাগর, বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকা মণ, একটু বাঝারি মানের ১২০০ টাকা, আর ছোট সাইজের টা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা মণ দরে। অন্যদিকে ল্যাংড়া ভালটা ১০০০-১২০০ টাকা মণ। অন্যদিকে বিভিন্ন জাতের গুটি আম ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারের সবচেয়ে নি¤œ মানের আম যাচ্ছে বিভিন্ন জুস কম্পানিতে, দাম ৪০০ টাকা মণ। আমের দামদর করতে দেখা যায়, আতিকুর রহমান পলাশ মিয়া নামে এক স্থানীয় ব্যাপারীকে। তিনি ঢাকায় আম পাঠাচ্ছেন। তারমুখেই জানা গেল বাজারের দূরাবস্থার কথা। স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিক সাওয়ার জাহান সোহাগ জানান, দার ৩০ বিঘা আমবাগান রয়েছে। এতে ফজলি, হিমসাগর, ন্যাংড়া, লক্ষনা, কালিভোগ, কুমাপাহাড়ী, মোহনভোগ, বোস্বাই, গোপালভোগ, সুরমাফজলি, হাড়িভাংগা, আশ্চিনাসহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। তিনি আরও জানান, ৫২ কেজিতে মণ আম বিক্রি এটা জেলাবাসীর জন্য অশনি সংকেত। এছাড়াও আমবাগান কিনতে আগ্রহী নাই বললেই চলে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৪ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০ লাখ আম গাছ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দিন দিন এ জেলায় আমের বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সাথে ফলনও বেড়েছে। এবার বাজারে আমের দাম কিছুটা কম। তবে ব্যবসায়ীরা যাতে আম বিক্রি করতে পারেন, সেই লক্ষে আমরা অনলাইনে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছি। এছাড়াও আম পরিবহনের সময় যাতে কোনো ধরনের ঝামেলায় পড়তে না হয়, সে জন্য পুলিশ প্রশাসনের সাথে আমাদের কথাবার্তা হয়েছে, তারা আমাদের সহযোগিতা করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, ৫২ কেজিতে মণ অভিযোগ শুনেছি। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিমান বিবেচনায় আম আমাদের দেশে সব চেয়ে জনপ্রিয় ফল। এ কারণে আমাদের দেশে আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়Ñ তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন। আমের রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার। আম থেকে আচার, চাটনি, আমসত্ব, স্কোয়াশ সিরাপ তৈরি করা হয়। বর্তমানে বিদেশে আম রফতানির সম্ভব উজ্বল হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্ব পূর্ণ হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ