চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক লাখ মেট্রিকটন ধান-চাল মজুদের অভিযোগ || দেখার কেউ নেই!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস


চাঁপাইনবাবগঞ্জে কতিপয় অটোরাইস মিল মালিক ও ধানচাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অবৈধ মজুদের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার আতাহার, বুলনপুর ও জামতলা শিল্প এলাকাসহ নাচোল ও রহনপুরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মিল মালিক বিপুল পরিমাণে ধান ও চাল মজুদ করে রেখেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অবৈধ মজুদদারদের গুদামে অভিযান চালাতে বাণিজ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও গত তিন দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি মিলেও অভিযান চালায় নি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। অভিযান চালানোর ব্যাপারে কোন চিঠি পান নি বলে দায় এড়িয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান।
জানা গেছে, বিশেষ করে সদর উপজেলার আতাহার, বুলনপুর ও জামতলা শিল্প এলাকা এবং নাচোল ও রহনপুরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মিল মালিক ও ধানচাল ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণে ধান ও চাল মজুদ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধান-চাল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের গোডাউনে কমপক্ষে এক লাখ মেট্রিকটন ধান-চালের মজুদ রয়েছে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, চলতি মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৬৫টি মিলের মালিক এবার চাল সরকারকে চাল দেয় নি। ফলে বিপুল পরিমাণ চাল থেকে গেছে চুক্তিবদ্ধ না হওয়া ওইসব মিল মালিকদের কাছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানায়, চলতি মৌসুমে তালিকাভুক্ত ১৯৪টি মিলারের কাছ থেকে ১৬ হাজার মট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২৯ জন মিলার চাল সরবারহের জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তিবদ্ধ এসব মিলাররা এখন পর্যন্ত মাত্র এক হাজার ৪০৬ মেট্রিকটন চাল খাদ্যগুদামে সরবারহ করেছেন। ফলে এবার সরকারি খাদ্য গুদামে জমা না হওয়া সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল মিলারদের কাছেই থেকে গেছে।
নাচোল উপজেলার নেজামপুরের কৃষক শুকুদ্দী ও মনিরুল ইসলাম জানান, বাজারে বোরো ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ৯শ থেকে এক হাজার ১শ টাকা মণ দরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুরসহ আশেপাশের জেলাগুলো থেকে উৎপাদনের অধিকাংশ ধান কিনে নিয়েছেন বড় বড় অটোরাইস মিলের মালিক ও ধানচাল ব্যবসায়ীরা। ফলে সাধারণ কৃষকদের কাছে এখন ধানের মজুদ নেই বললেই চলে। সে হিসেবে মিলে চালের উৎপাদন খরচ পড়ে কেজিপ্রতি ৩৮ টাকা থেকে সর্ব্বোচ্চ ৪৫ টাকা। অথচ এখন সেই চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে।
তারা আরো বলেন, চাল ও ধানের বর্তমান মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকরা কোনভাবেই উপকৃত হচ্ছেন না। একশ্রেণির মধ্যস্বত্যভোগী ব্যবসায়ী ও মিলার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। এই ক্ষেত্রে সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ না করা সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল কোথায় ও কিভাবে বিক্রি হলো তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মত প্রকাশ করেন তারা।
তবে মজুদের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মিল মালিক ও আতব ধান চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং হক অটোরাইস মিলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, জেলার কোনো মিলে চালের মজুদ নেই। তবে মিল চালু রাখতে সরকারি নিয়ম মেনেই কিছু ধানের মজুদ আছে বলে জানান তিনি।
এদিকে গত রোববার অবৈধ মজুদদারদের গোডাউনে অভিযান চালাতে বাণিজ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এর কোন প্রভাব পড়ে নি। বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও জেলার একটি মিলেও অভিযান চালায় নি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেশের বাইরে ও পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম অফিশিয়াল কাজে বেশ কয়েকদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কবে নাগাদ জেলায় অবৈধ মজুদদারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে সেটাও নিশ্চিত হওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এরশাদ হোসেন খান জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তার সমন্বয়ে মঙ্গলবার থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় এই অভিযান চলছে তা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেন নি।
বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কোন অভিযান চালানো হয় নি বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিয়াজুর রহমান রাজু। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে খাদ্য দফতর ও মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তারা ৪-৫ দিন আগে বেশ কিছু মিল ঘুরে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এর বাইরে অভিযানের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।
এদিকে অবৈধ মজুদদারদের গুদামে অভিযান চালানোর বিষয়ে এখনো কোন চিঠি পান নি বলে দায় এড়িয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালালে পুলিশ তাদের সহায়তা করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ