চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার কামারশালায় ব্যস্ততা নেই

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২০, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


ইদুল আজহাকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামারশালাগুলোতে প্রতিবছরই ব্যস্ততা থাকতো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতো তপ্ত লোহাকে পিটিয়ে দা, ছুরি, কোপতা তৈরির কাজ। কিন্তু এবার করোনার কারণে সেরকম ব্যস্ততা নেই।
জেলা শহরের কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো ব্যস্ততা নেই কামারদের। শহরের প্রাণ কেন্দ্র অক্ট্রয়মোড় এলাকার একটি কামারশালায় কথা হয় মালিক শ্রী মতিলাল কর্মকারের সাথে। তিনি জানালেন, ইদ আসলেই তাদের কাজের চাপ কয়েকগুন বেড়ে যায়, কিন্তু এবার তাদের সে পরিমাণ কাজ নেই। ইদের এক মাস আগে থেকেই দা, ছুরি ও বটি তৈরি করা শুরু হতো। বিক্রি শুরু হতো এক সপ্তাহ আগে থেকে। এ বছর তেমন কাজ পাওয়া যায়নি। কাজ অর্ধেকে নেমে এসেছে, কোনো রকমে চলছে তার কামারশালা। গত বছর এসময় কাজ শেষ করার ফুরসত ছিল না। বাড়তি চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করতে হতো। কিন্তু করোনার কারণে কাজ কমে গেছে। তার সহযোগী হিসেবে একজন কাজ করছে বলে জানালেন। কোরবানির আগের মাস থেকেই ব্যবসা চাঙা হতো। কিন্তু এ বছর তাদের আশানুরূপ কাজ নেই। সামান্য পরিমাণে দা-ছুরি বিক্রি ও শাণ দেয়ার কাজ পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, অনেক আগে থেকে কাঁচা লোহা কিনে রাখতে হতো। হাফ ব্যবহারে কয়লা মজুদ করে রাখতে হতো, এবার সেটি নেই। পুরনো দা বটি, কোপতা শান দেয়ার মজুরি প্রকার ভেদে ৮০ ও ১২০ টাকা নেয়া হচ্ছে। আর এখন গ্রাহকরা পুরোনোগুলোতেই শাণ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
কামারশালায় কথা হয় আজিজুল হক নামে গ্রাহকের সাথে, পছন্দমত ও মানসম্মত ছুরি কিংবা দা যায়ই হোক না কেন, কোরবানি ইদের সময় কামারশালায় আসতে হয়। এবার পুরনো দা আর ছুরি ধার দিতে এসেছেন।