চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার রমজানে ইফতারিতে ক্রেতা কম

আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০২১, ৯:০৭ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউন চলায় মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। রোজার প্রথম দিনে ক্রেতারা খুব বেশি বাইরে বের হতে পারেননি। এ কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইফতার সামগ্রীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের তেমন আগমন ছিল না। কেউ কেউ ইফতার সামগ্রী বানানো বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা করছেন। ফলে ইফতারির বাজারে যেন আমেজ হারিয়ে ফেলেছে।
এবার লকডাউনের মধ্যদিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে রমজানের প্রথম রোজা পার হলো। সরকারি নির্দেশনা রয়েছে ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে প্রয়োজন ব্যতীত বাড়ি থেকে বের না হওয়া। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে নানান ইফতার সামগ্রী কিনতে বের হন রোজাদাররা। প্রতিবছর রমজানের প্রথম দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে রোজার বিভিন্ন ইফতার সামগ্রীসহ ক্রয় করার জন্য ভিড় জমাতেন রোজাদাররা। সেখানে ইফতারের দুই ঘণ্টা আগে সীমিত সংখ্যক ক্রেতা লক্ষ করা গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে এবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। যেমন-ইফতার বিক্রীর তালিকায় চিকেন ফ্রাই রাইস, তান্দুরি চিকেন, মিক্সড ভেজিটেবল, ফ্রাইড রাইস, চিকেন মাসালা, চিকেন বিরিয়ানি, তেহরী বিক্রি হতো। এছাড়া ফাস্টফুডের মধ্যে চিকেন ফ্রাই, জালী কাবাব, সামী কাবাব, স্পাইসি চিকেন স্টিক। এছাড়া, জিলাপী, বেগুনী, পিয়াজু, মিহি দানা, হালিম, ছানা পোলাও, হালুয়া, ফিরনী, শাহী জিলাপী ইত্যাদি। এবারের রমজানে সেই উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি। তবে রমজানের প্রথম দিনে তেমন ছিল না জৌলুস। রোজাদাররা নিউমার্কেট সংলগ্ন আলাউদ্দিন সুইটস এ- ফাস্ট ফুডে ও শাহজাহান সুইটস এ সামাজিক দূরত্ব বাজায় রেখে ইফতারি সামগ্রী ক্রয় করতে দেখা গেছে। তবে, দোকানের স্বত্বাধিকারী সোহাগ বলেন, তুলনামুলকভাবে আশানুরূপ ব্যবসা নেই। প্রতিবছর জেলা শহরের হুজরাপুর ও নিউমার্কেট এলাকার আলাউদ্দিন হোটেল এন্ড সুইটস, ক্লাবসুপার মার্কেট এলাকার চাপাই ফুড ক্লাব, কাজি ফার্মস কিচেন, তামান্না হোটেল এন্ড ফাস্ট ফুড, সাগর হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, নবাব মিষ্টান্ন ভান্ডারের ৩টি দোকানসহ বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানে রমজানের দুপুর থেকে পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত বাহারি বিভিন্ন রকমের ইফতারির পসরা সাজাতো, সে জৌলুস আর চোখে পড়ার মতো ছিল না। সামান্য কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও অনেকটা নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে দেখা গেছে। শহরের নিউমার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন মোড়ে ঘোল আর মাঠা বিক্রী করতে দেখা গেছে, তবে চাহিদার তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম। এছাড়া, অলিগলিতে অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকানে ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসতো দোকানিরা। এবার তারাও এসময় বাড়তি আয় করতো সেটিও দেখা যাচ্ছে না।