চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসপি অফিসে দরপত্র জমা দিতে এসে ঠিকাদার লাঞ্ছিত

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ঊর্ধমূখি সম্প্রসারণ কাজের দরপত্র দাখিল করতে এসে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন একজন ঠিকাদার। দরপত্র দাখিলের জন্য নির্ধারিত শেষ দিনে গত মঙ্গলবার একজন সহকারী পুলিশ সুপারের (সদর দফতর) সামনেই জেলা ঠিকাদার সমিতির আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগ নেতা এজাবুল হক বুলির নেতৃত্বে এ ঘটে এ ঘটনা। লঞ্ছনাকারীরা ওই ঠিকাদারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
গণপূর্ত বিভাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের চতুর্থ থেকে অষ্টম তলায় নির্মানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৫ কোটি টাকার বেশি। গত মঙ্গলবার ছিল দরপত্র দাখিলের শেষ দিন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী চারটি দফতরে দরপত্র দাখিলের জন্য বাক্স রাখা হয়েছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়সহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যলয় ও রাজশাহীর গণপূর্ত বিভাগে বাক্স রাখা হয়েছিল।
লাঞ্ছনার শিকার ঠিকাদার মনির হোসেন বকুল প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ কার্যালয়ে রাখা বাক্সে দরপত্র দাখিল কতে গিয়ে দেখেন বহিরাগত অনেক লোকজন ঘোরাঘুরি করছেন। সেখানে নিরাপত্তার অভাববোধ করলে তিনি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দরপত্র দাখিল করতে যান। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দ্বিতীয়তলায় রাখা বাক্সেও কাছাকাছি যেতেই সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও জেলা ঠিকাদার সমিতির আহ্বায়ক এজজাবুল হক বুলিসহ তার লোকজন দরপত্র দাখিলে বাধা দেন। এক পর্যায়ে বুলির সঙ্গে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখার আহমেদ রঞ্জু তাকে ধাক্কা দেয়। পরে বুলিও তাকে ধাক্কাধাক্কি করে দরপত্রের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আংশিক ছিনিয়ে নেন। বাকি কাগজপত্রটুকু তিনি দাখিল করেছেন। যেহেতু আংশিক কাগজপত্র দাখিল করেছেন তাই তার দরপত্র বাতিল হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করেছেন তিনি।
তিনি আরো জানান, তাকে যখন ধাক্কাধাক্কি করা হচ্ছিল তখন সেখানে উপস্থিত সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দফতর) আবুল কালাম সাহিদের কাছে তিনি নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিরব ভূমিকা পালন করেন। কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়ার পরে পুলিশ রঞ্জুকে আটক করে।
দরপত্র খোলার সময় মনির হোসেন বকুল একই অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও করেছেন। ওই সময় সেখানে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল অধিকারী।
দরপত্র দাখিল করতে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার কথা স্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ বলেন, তেমন বড় কোনো ঘটনা ঘটে নি। একজন ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করতে আসলে অপর কয়েকজন বাধা দেয়। আমরা ওই ঠিকাদারকে দরপত্র দাখিল করতে সহযোগিতা করেছি এবং তিনি দরপত্র দাখিল করেছেন। তবে পুলিশ নিরব ভূমিকার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানান, ওই কাজটির জন্য ঠিকাদার সমিতির তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত কয়েকজন ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করবেন এবং তারা কাজটি করবেন। আর এজন্য ঠিকাদার সমিতিকে অনুদান হিসেবে দেয়া হবে দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকা। গত সোমবার রাতে ঠিকাদার সমিতির নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ঠিকাদার বকুলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে তার দফতরের বাইরে। এ ক্ষেত্রে আমার করার কিছুই নেই। তারপরও ঠিকাদার বকুল লিখিত অভিযোগ দিলে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। তিনি আরো বলেন, দরপত্র নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি আমার জানা নেই। নিয়ম মেনেই চারটি আলাদা স্থানে দরপত্র দাখিলের জন্য বাক্স রাখা হয়েছিল। আমার দফতরে দরপত্র দাখিল নির্বিঘœ করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে সকাল থেকেই গণপূর্ত বিভাগের দফতর চত্ত্বরে ঠিকাদার ছাড়াও অর্ধশতাধিক লোকজন ছিল।
সেখানে দায়িত্বরত সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজ জানান, এখানে দরপত্র দাখিল করতে এসে কেউ বাধাগ্রস্ত হন নি।
দরপত্র দাখিলে বাধা দেয়া প্রসঙ্গে এজাবুল হক বুলি বলেন, বকুলকে বাধা দেয়ার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। পরে এসপি অফিসে গিয়ে আমিই তাকে দরপত্র দাখিলে সহযোগিতা করেছি। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঠিকাদার সমিতির মৃত সদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহয়তাসহ সমিতির তহবিল উন্নয়নের জন্য সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়, পরে তা বাতিল করা হয়। ঠিকাদার সমিতিতে এর আগেও এমন সিন্ধান্ত নেয়ার নজির রয়েছে বলে তিনি জানান।
অপ্রীতিকর ঘটনার কথা স্বীকার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই ঠিকাদার পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে দরপত্র দাখিল করেছেন। বাধা দেয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। কাজেই পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ