চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা সতর্কতায় সবার ঘরে থাকা নিশ্চিতে নানা চেষ্টা

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২০, ১১:০৫ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


করোনা ভাইরাসের সতর্কতায় ঘরে থাকা নিশ্চিতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ। জনসমাগম স্থানগুলোতে নিয়মিত চলছে প্রচারণা, সাধারণ মানুষকে বোঝানো হচ্ছে করোনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ঘরে থাকার প্রয়োজনীয়তা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ৪টি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, লোক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। জেলা শহরে ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়নগুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ অর্ধশতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। গত ১১ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে বেশির ভাগ গ্রামে পাকাবাড়িসহ আধুনিক সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৩০ ভাগ নিম্নবিত্ত মানুষকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় রাখায় ৩ বেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা হয়েছে। গত মার্চ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর মিডিয়ায় প্রকাশের পর জেলার মানুষের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর শহর, হাটবাজার জন শূন্য হয়ে পড়ে। এদিকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতায় বেশির ভাগ মানুষ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। শুধুমাত্র জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না। তবে এসময় যারা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে সরকারি প্রনোদনা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মাধ্যমে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারলে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে।
ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের সমাজসেবক অধ্যাপক মো. আবদুস সালাম দুর্যোগ সময়ে সকল ধরনের সরকারি সহায়তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে প্রকৃত খেটে খাওয়া মানুষদের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার দাবি করেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি বরাদ্দ প্রায় ৩০ মেট্রিক টন চাল ১৫টি ইউনিয়ন ও ৮ মেট্রিক টন চাল শিবগঞ্জ পৌরসভার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও শুকনো খাবার প্রস্তুত রয়েছে, প্রয়োজনে দেয়া হবে।
সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ ৪ উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে ১টি দল গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এজেডএম নুরুল হক বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ৪৪৮ মেট্রিক টন চাল সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে যার মধ্যে ১৩৫ মেট্রিক টন চাল বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পর্যাপ্ত চাল মজুদ রয়েছে, ঘরে থাকার দিনগুলো আরো বর্ধিত হলেও সংকট হবে না ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ