চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষক লীগের সম্মেলনে ককটেল বিস্ফোরণ, মারামারির

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২২, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


ককটেল বিস্ফোরণ ও দুই গ্রুপের মারামরির মধ্যদিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে শহরের পৌর পার্কে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দর উপস্থিতিতে দু গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবদুল ওদুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন, পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমানসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় সার্কিট হাউসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ। এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লির সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উপস্থিত ছিলেন। খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অনুসারীরা সম্মেলস্থলে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরে জেলা আওয়ামী লীগে নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে জেলা কৃষক লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ বকুল ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন আল কামাল ইব্রাহীম রতন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মঞ্চের বাম পাশে হঠাৎ একটি চেয়ার নিচে পড়ে যায়। এ নিয়ে নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় জেলা কৃষক লীগের সহ সভাপতি খায়রুল আলম জেম ও পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহত হন। সমাবেশ স্থলের আশপাশে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। আহত মিনহাজকে ২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সম্মেলন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অতিথিদের নিয়ে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এসময় বেশ কিছু যুবকের হাতে ককটেল দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

প্রত্যাক্ষদর্শী আব্দুল আওয়াল নামে পথচারী জানান, বড় ইন্দারা মোড়ে পর পর অন্তত ৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে স্থানীয় দোকানদার, পথচারী ও যানবাহন চালকরা। বন্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল সড়কটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান টিটো বলেন, দীর্ঘ আট বছর পর সম্মেলনকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। কেন্দ্রের নির্দেশনা ছিল-মঞ্চে কৃষকলীগের দায়িত্বশীল নেতা ও কার্ডধারীরা বসবে। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি তার লোকজনকে মঞ্চে উঠিয়ে সম্মেলন বানচালের চেষ্টা করে। এতে কৃষকলীগের দায়িত্বশীল নেতা ও পুলিশ বাঁধা দিতে গেলে গন্ডগোল বাধে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের স্থানয়ীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন,সম্মেলনের আগের রাতে সার্কিট হাউসে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান বলেন, সম্মেলনস্থলে দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে কি কারনে এমন বিশৃঙ্খলা হল তা নিশ্চিত নন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান বলেন, সম্মেলনস্থলে দুই গ্রুপে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কোথাও কোন ঝামেলা নেই। তিনি দাবি করেন সম্মলেনের আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে পটকার মত শব্দ পাওয়া গেছে। কয়েকটি গাড়ী ভাংচুরের কথা স্বীকার করে জানান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্র রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।