চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছে গাছে মুকুল, পরিচর্যায় ব্যস্ত আমচাষিরা

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট ও সফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ


শিবগঞ্জ উপজেলার একটি বাগানে মুকুলকে রক্ষা করার জন্য স্প্রে করছেন আমচাষিরা
শীতের প্রথম বৃষ্টিপাতে দরুন খুশি আমচাষিরা। গত মঙ্গলবার ভোররাত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে হয়েছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে শীত বাড়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়লেও স্বস্তি ফিরে এসেছে জেলার হাজারো আমচাষির হৃদয়ে। শীতের প্রথম এই বৃষ্টিকে আম উৎপাদনের জন্য সহায়ক হিসেবে দেখছেন তারা। অপরদিকে গাছে যাতে মুকুল ভালো ভাবে ফুটে তার জন্য স্প্রে করছেন আমচাষীরা।
বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এরই মধ্যে বাগান পরিচর্যার কাজে নেমে পড়েছেন চাষিরা। কোনো কোন বাগানে আগাম মুকুল আসতেও শুরু করেছে। তাই পোকার আক্রমন থেকে মুকুল রক্ষায় আমগাছে এখন পোকানাশক বিষ স্প্রে করছেন চাষিরা। এই অবস্থার মধ্যেই মঙ্গলবার ভোররাত থেকে জেলা জুড়ে হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টি। চলতি শীত মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিকে আমের মুকুল ফোটার জন্য দারুন সহায়ক হিসেবে দেখছেন ফল বিজ্ঞানী ও আমচাষীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আজাইপুর গ্রামের আমচাষি আব্দুল রাকিব জানান, এই বৃষ্টি আম উৎপাদনের জন্য খুবই ভালো। গত ১০ দিন ধরে তারা বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন। বৃষ্টির ফলে ডগা থেকে দ্রুত মুকুল ফুটবে।
একই গ্রামের আরেক আমচাষি ময়েজ হোসেন টুটুল শীতের প্রথম এই বৃষ্টিকে আমের জন্য ‘মধু’ হিসেবেই দেখছেন। এই বৃষ্টি গাছকে আরো সতেজ করবে এবং মকুল ফুটতে সহায়তা করবে।
এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার শতাধিক আম বাগান ঘুরে দেখা যায়, আম বাগানে বালাইনাশক ছিটানোর কাজ করছে শ্রমিকরা। উপজেলার বিনোদপুর কলেজ সংলগ্ন আম বাগানে বালাইনাশক ছিটানোর কাজ করা শ্রমিক বাবু ও রাজ জানান, গাছে যাতে মুকুল ভালো ভাবে ফুটে তার জন্য স্প্রে করছেন। কি স্প্রে করছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা গাছের জন্য ভিটামিন, সেই সাথে গাছে থাকা পোকামাকড় দূর হয়ে যায় স্প্রে করলে গাছে ভালো মুকুল আসে ফলনও ভালো হয়।
তারা আরো জানান, গত এক সপ্তা থেকে তারা ৮ জন মিলে বিভিন্ন বাগান মালিকের হয়ে দিন মজুরিতে বাগানে স্প্রে দেয়ার কাজ করছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলার রানীনগরের বাগান মালিক মো. জেম জানান গত এক সপ্তাহ থেকে তার বাগানের লখনা ও খিরসাপাত জাতের কিছু আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে পুরোপুরি মুকুল আসতে আরো দুই সপ্তাহ মত সময় লাগবে। এবছর ১০ বিঘামত বাগানের আম ফল কিনে রেখেছেন আম ব্যবসায়ী জেম। আম ব্যবসায়ীরা আম গাছের গঠন, পাতা দেখে আম বাগানের আম ফল আগাম কিনে থাকেন। আম ব্যবসায়ী জেমের আশাবাদ এবছর ভালোই মুকুল আসবে। তিনি বলেন, এবছর আম গাছের পাতাসহ সবকিছুই দেখতে চিকন (ভালো) লাগছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সর্বশেষ ২০১৬ সালের তথ্য অনুয়ায়ী শিবগঞ্জ উপজেলায় আম বাগান আছে  প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ আছে প্রায় ১০ লাখ। তবে চলতি মৌসুমের হালনাগাদ তথ্য এখনো শুরু হয় নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সরফ উদ্দিন জানান, পৌষের এই বৃষ্টি কৃষির জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে আমের মুকুল ফোটার জন্য দারুন সহায়ক হবে। তিনি জানান, অনেক আমবাগানের মাটি শুকিয়ে টান টান হয়ে গিয়েছিলো। বৃষ্টির ফলে আমগাছগুলো পানির যোগান পাবে। এছাড়া আমের পাতায় জমে থাকা ময়লা ধুয়ে নেমে যাওয়ার কারণে গাছ আরো সতেজ হবে। যার প্রভাবে মুকুল ফুটবে বেশি করে।
তিনি আরো জানান, এ সময় বাগানে বসবাস করা হপার পোকা যারা মুকুলের ক্ষতি করে, এ পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে করতে হবে। তবে যেহেতু দুই একদিন থেকে কুয়াশা বেশি পড়ছে তাই এখন স্প্রে করে খুব ভালো ফল পাবেন না চাষিরা। কারণ ঠান্ডার কারণে এমনিতেই হপার পোকা গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকবে। তবে আরো এক সপ্তাহ পরে দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। সেই সাথে নিয়ে সালফার জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ