চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট ,দাম ভাল না থাকায় খামারীরা হতাশ

আপডেট: জুন ১৩, ২০২৪, ১১:১১ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা:


আসন্ন ইদুল আজহা উপলক্ষে জেলার গবাদিপশু হাটগুলিতে বাজার জমে উঠলেও শান্তিতে নেই ব্যবসায়ী ও খামারিরা। জেলায় আটটি গবাদি পশুর হাটে জেলার প্রত্যন্তাঞ্চলে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতা, খামারী ও সাধারণ গবাদিপশু পালনকারীদের সাথে আলাপ করে এধরনের তথ্য উঠে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন দাম কম নয়, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ও বেশির ভাগ খামারি ও গবাদি পশু পালনকারীর ক্রয়কৃত খাবার খাওয়াতে খরচ বেশি হওয়ায় গবাদিপশু পালনে খরচ একটু বেশি হওয়ায় লাভ কিছুটা কম হচ্ছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে গবাদিপশুর গরুর হাটগুলিতে শত শত খামারী ও ব্যবসায়ী গরু নিয়ে বিক্রির জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রেতারা দরদাম করছে। পোষালে নিচ্ছে না পোষালে না নিচ্ছে। তর্তীপুর হাটে দূর্লভপুর ইউনিয়নে গরু বিক্রেতা প্রফুল্ল কুমার রবিদাস জানান,আমি গত বছর একটি গরু এক লাখ ৩৮ হাজার টাকায় ক্রয় করে প্রতিমাসে প্রায় তিন হাজার গরুর জন্য খরচ করে গরুটির দাম পেেড়ছ এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

বিক্রি করতে হলো এক লাশ ৬৫হাজার টাকায়। একই কথা জানালেন হাটের অন্যান্য গরু পালন কারী ও খামারীরা। গরু ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানান,বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় শত শত গরুর খামার তৈরী করায় খামারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্রেতারা সেখানেই কোরবানীর জন্য গরু ক্রয় করতে পারায় আর চাঁপাইনববাবগঞ্জ জেলায় গরু ক্রয় করতে আসেনা। তাছাড়া গোখাদ্যের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় গোবাদিপশু পালনে খরচ বেশী হওয়ায় বিক্রির সময় আনুপাতিকভাবে দাম কম পাচ্ছে।

আব্দুল খালেক আরো জানান, ছোট –বড় গরুর দামে যথেষ্ট তারতম্য আছে। তিন বা সাড়ে তিন মণ মাংসের গরুর দাম মাংসের দাম মণ প্রতি ৩০হাজার টাকা দরে গোটা গরু ওজন করে অ্যাপসের মাধ্যমে মাংস কতটি হবে তা অনুমান করে বেচা কেনা হচ্ছে।অন্যদিকে বড় গরু যেগুলির মাংস পাঁচ থেকে ১০ মন হবে সেগুলির মাংসের দাম মণ প্রতি ২৫/২৬হাজার টাকা দরে বিক্রী হচ্ছে।

তিনি আরো জানান এখন আর বাহির থেকে কোন পাইকার না আসায় গরুদ বাজার কিছুটা মন্দা চলছে।খামারী আব্দুল মান্নান জানান,চার বছর আগে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় চারটি গরু কিনে খামার দিয়েছিলাম। বর্তমানে ১৪টি আছে। ছয় মাস আগে চারটি গরু ছয় লাখ টাকায় বিক্রী করেছি। একটি মারা গেছে। বাকীগুলো বিক্রী করতে পারছি না। কারণ দাম অনেক কম। একই কথা ছাগল ব্যবসায়ী ও ছাগল পালনকারীদেরও । ছাগল ব্যবসায়ী জিয়াউল হক শুকুদ্দি জানান ১৫ কেজি মাংস হবে এ ধরনের একটি খাসীর দাম প্রায় ১৫হাজার টাকা । যার মাংস কেজি প্রতি এক হাজার টাকা হচ্ছে।

অন্যদিকে যে সমস্ত খাসীর মাংস ২০ কেজি থেকে ৩০ কেজি হবে ্এধরনের খাসীর দাম প্রায় খাসীর দাম মংসের হিসাবে সাড়ে সাত শ থেকে সাড়ে আট শ টাকা কেজি ধরে কেনা বেচা হচ্ছে। মনাকষা বাজারে খাসীর হাটে বুদ্ধু বলেন এবার বাহির থেকে পাইকার আসেনি। তাই খাসীর বাজারে খুব একটা বেশী চাহিদা না থাকায় বড় বড় খাসীর দাম আনুপাতিক হারে কম। এ ধরনের অভিযোগ শত শত খামারীদের।

তাদের আরো অভিযোগ হলে এমনিতে দাম কম তারপর আবার হাট ইজারাদারগণ অবৈধভাবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের নিকট খাসী প্রতি ২শ থেকে ২৫০টাকা ও গরু প্রতি ৫শ টাকা করে বেশী নিচ্ছে। যা বোঝার ওপর শাঁকের পুটলি ভারী মত অবস্থা হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা:শাহাদাত হোসেন জানান, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের প্রচেষ্টায় এবার শিবগঞ্জে কোরবানী দেয়ার যোগ্য গবাদি পশুর যোগান অনেক বেড়েছে।

গরু যোগান রয়েছে প্রায় ৫২হাজার ও ছাগলের যোগান রয়েছে প্রায় ৮০ হাজার। কিন্তু শিবগঞ্জে কোরবানীর দেয়ার জন্য গরুর চাহিতা রয়েচে প্রায় ৩৬হাজার ও খাসির চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪০হাজার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা: গোলাম মোস্তফা জানান, কোরবানীর দেয়ার এ বার গরু ছাগল মিলে এক লাখ ৮২হাজার ১৬৭টি যোগান রয়েছে। তার মধ্যে ষাঁড় রয়েছে ৩৮হাজার ৭৭৮টি, বলদ রয়েছে ২৯হাজার ,৯২৭টি। মোট হলে এক লাখ ৬২৯টি এবং মহিষ রয়েছে ৪৮৩টি।

অন্যদিকে ছাগল রয়েছে ৭০ হাজার ১৩১টি, ভেড়া রয়েছে ১০হাজার ৯৯১টি ও অন্যান্য হলো ৫টি । উপজেলাওয়ারী হিসাব হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ষাঁড়ের সংখ্যা হলো ১৬হাজার ৬০৭টি, বলদ হলো ১৮হাজার ১২০টি,ছাগল হলো ৩১হাজার ১১২টি,ভেড়া হলো এক হাজার ৮৪৪টি,শিবগঞ্জে ষাঁড়ের সংখ্যা হলো সাত হাজার ১৩২টি, বলদ হলো তিন হাজার ২৫৪টি,ছাগল হলো ২০হাজার ৭৮২টি, ভেড়াহলো এক হাজার ৫২৯টি,নাচোলে ষাঁড়ের সংখ্যা হলো দুই হাজার ৪১২টি, বলদ হলো এক হাজার ২৬৮টি, ছাগলের সংখ্যা হলো তিন হাজার ৫৭১টি, ভেড়া হলো এক হাজার ৩৮২টি,গোমস্তাপুরে ষাঁড়ের সংখ্যা হলো আট হাজার ৯৯০টি, বলদ হলো ছয় হাজার ৯৫৯টি,ছাগলের সংখ্যা হলো সাত হাজার ৭৬৬টি ও ভেড়া হলো পাঁচ হাজার চারটি, ও ভোলাহাটে হ ষাঁড়ের সয়খ্যা হলো তিন হাজার ৬৩৭টি, বলদ হলো ৩২৬টি,ছাগলের সংখ্যা হলো ছয় হাজার ৯০০ ভেড়া হলো এক হাজার ১৮০টি।

জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার জানান, গোলাম মোস্তফা জানান ভারত থেকে চোরাই পথে গরু আমদানী বন্ধ হওয়ায় খামারীরা গরু পালন আগ্রহী হয়ে উঠায় ও প্রাণী সম্পদ অফিসার ও কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় গরু সেবার মান উন্নত হওয়ায় গরুর যোগান দিন দিন বৃ দ্ধি পাচ্ছে। তবে গোখাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় খামারীরর কিছুটা সমস্যায় পড়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ