চাঁপাইনবাবগঞ্জে তীব্র তাপদাহ বাড়ছে ডায়রিয়া, হাসপাতালে রোগীর ভিড়

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২৪, ৯:০২ অপরাহ্ণ


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে তীব্র তাপদাহ। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। বেলা বাড়ার সাথে রাস্তা ঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বের হচ্ছে না।
তাপমাত্রা ৪০ পেরিয়ে ৪১ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। এতে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন প্রায় ১০০ রোগী। শয্যার অতিরিক্ত রোগী থাকায় হাসপাতালটিতে মেঝে আর বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকেই। চিকিৎসকরা বলেন, চলমান তাপদাহ অব্যাহত থাকলে অ-স্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে পানিবাহিত রোগীর-সংখ্যা।

২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরেই ধারাবাহিকভাবে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের ৭০ শতাংশই শিশু। হঠাৎ করেই রোগি বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগিদের বারান্দা বা করিডোরের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছেন। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগিদের বেশিরভাগই শিশু। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- প্রতিদিন শতাধিক রোগি ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে। এদের মধ্যে যাদের অবস্থা তুলনামূলক খারাপ, তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। বাকীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। জেলা হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা মাত্র ১০ টি। ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ড মিলিয়ে জায়গা না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দাতেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে ৮ মাসের শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন বালুগ্রামের কারিমা খাতুন। তিনি জানান, বাড়িতে প্রচন্ড গরম। এই গরমের কারণেই বাচ্চার ডায়রিয়া হয়ে যায়। অবস্থা খারাপ দেখে হাপসাতালে নিয়ে আসেন। দুদিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাদের। আব্দুল আওয়াল নামে আরেক অভিভাবক জানান- চিকিৎসকরা নিয়মিত আসেন। সময় নিয়ে রোগি দেখেন। কিন্তু ওয়ার্ডের বাইরে বাচ্চাদের নিয়ে থাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসকরা বলছেন- কয়েকদিনের চলমান দাবদাহেই ডায়রিয়া রোগির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এ অবস্থা কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের জুনিয়ার কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা দেখছি যে ডায়রিয়ার প্রকোপটা অস্বাভাবিকহারে বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই পঞ্চাশের অধিক বাচ্চা ভর্তি হচ্ছিল। গত বুধবার থেকে তা বেড়ে শতাধিক হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তরা সুস্থ্য হচ্ছে। কেউ মারা যায়নি। তিনি জানান, এ সময় রোটা ভাইরাসসহ জীবানু বেড়ে যায়। যে কারণে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। এ সময় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। বাইরের খাবার একেবারেই দেয়া যাবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version