চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেবী দূর্গার আগমনকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ২:৪৬ অপরাহ্ণ


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসব। ক’দিন পরেই শান্তির বার্তা নিয়ে আসছে দেবী দূর্গা। এ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আর সেই সাথে মৃৎ শিল্পীরা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে,

কারিগরদের অভিজ্ঞ হাতের নিপুণতায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মা দূর্গাকে। তবে, আয়োজকদের প্রত্যাশা জাকজমকপূর্ণ পূজা আয়োজনের। প্রতিবছর শরৎ ঋতুতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

এবার জেলা জুড়ে প্রতিমা তৈরী হচ্ছে ১৪৩টি পূজা মন্ডপে। এদিকে, দূর্গা মায়ের আগমনী বার্তায় ভক্তদের মাঝে লেগেছে আনন্দের দোলা।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা শহরের হুজরাপুর মহল্লার গুড়িপাড়া কালিমন্দর, শিবতলায় চরজোতপ্রতাপ দূর্গামাতা ঠাকুরাণী মন্দির, প্রতাপ চন্দ্র দাস দূর্গা মন্দির জোড়ামঠ দূর্গা মন্দির, কৃচ্চণ ঠাকুর দূর্গা মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে।

আর শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় একটু একটু করে মা সেজে উঠবেন আপন ঐশ্বর্যে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠিকতা শুরু হবে। আর আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা।

তাই হাতে একদমই সময় নেই প্রতিমা কারিগরদের। তারা সকাল থেকে রাত অবধি পরিশ্রম করে চলেছেন। এরপর শিল্পীর নিপুণ হাতের তুলির ছোঁয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে প্রতিমার মূল অবয়ব।

চরজোতপ্রতাপ দূর্গামাতা ঠাকুরাণী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার দাস জানান, দূর্গা প্রতিমা তৈরী করতে এবার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা মজুরী নিচ্ছেন কারিগররা এবং এ প্রতিমা তৈরীতে মৃৎশিল্পী লাবু পাল ও তার সাথে আরো ২জন সহকারি রয়েছে।

এবার ১০টি প্রতিমার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। ঝংকার সংঘে প্রতিমা তৈরীর শিল্পী আশিষ কুমার সিনহা জানান, এবার ২টি প্রতিমা তৈরীর কাজ পাওয়া গেছে। এখন এগুলো শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি প্রতিমার আকার ও সাজসজ্জার উপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়।

আর মজুরি নেয়া হয়েছে ৬০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি বলেন, গত ২ বছর করোনার কারণে পূজা মন্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল না।

এবার জাকজমকপূর্ণভাবে পালন করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি মন্ডপগুলোতে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা । পূজা উদযাপনে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের নজরদারি থাকবে।

এছাড়াও স্ব স্ব মন্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরো জানান, জেলায় এবার ১’শ ৪৩টি মন্ডপে শারদীয় পূজা উদযাপন করা হবে।

পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব জানান, শারদীয় দূর্গাপূজা যাতে নির্বিঘেœ হয় সেজন্য আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা আগাম মাঠে কাজ শুরু করার পাশাপাশি বিশেষ সংস্থাও নজরদারি রাখছে।