চাঁপাইনবাবগঞ্জে নামমাত্র মূল্যে চামড়া বিক্রি

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২০, ১১:১৭ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি


করোনার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার পশু কোরবানি কম হওয়ার পাশাপাশি চামড়া কেনা কাটায় মন্দাভাব, আর এতে করে বঞ্চিত হবে গরিব মানুষ। নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হয়েছে এবারের চামড়া। আড়ৎদাররা বলছেন, করোনার কারণে অনেকেই পশু কোরবানি কম দেয়ার পাশাপাশি আগের টাকা বকেয়া থাকা এবং এবার তারা করোনার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চামড়া ক্রয় করেননি। এমনিতেই যেটুকু এসেছে তা ক্রয় করেছেন।
এবার চামড়া কেনার জন্য শহরের বিভিন্ন্ এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা একেবারে কম দেখা গেছে। মৌসুমী ব্যবসায়ী সামসুল ইসলাম জানান, গত বছর লোকসানের কারণে এবার তারা সামান্য পরিমাণ চামড়া ক্রয় করেছেন। কিন্তু তাদের কাছ থেকে চামড়া কেনার আগ্রহ নেই প্রকৃত ব্যবসায়ীদের। এ কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন।
পাঠানপাড়া মহল্লার আমিনুর রহমান জানান, কোরবানির সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া ক্রয় করতো। এবার চিত্রটা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। এবার কেউ চামড়া ক্রয় করতে না আসায় গরুর চামড়া ২’শ টাকায় কসাইয়ের কাছে বিক্রি করেছেন। চামড়ার টাকা গরীবের হক, এ সামান্য টাকা কিভাবে গরীবদের মাঝে বন্টন করবো।
এদিকে ইব্রাহিম হোসেন জানান, গত বছর কম দামে চামড়া বিক্রি হলেও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছিল। তারা চামড়ার দাম নিয়ে কষাকষি করতেন। এবার তার ছিটেফোটাও দেখা যায়নি। মাদ্রাসা, এতিমখানা বা মসজিদ থেকে কেউ চামড়া নিতে না আসায় খাসির চামড়া কসাইকে বিনামূল্যে দিয়ে দেয়া হয়েছে। এতিমখানায় গরিব ছেলেরা পড়ালেখা করে তাদের জন্য মহল্লার অনেকেই চামড়া দান করে দিয়েছেন।
এদিকে বিভিন্ন জামাতে জমা হওয়া চামড়াগুলো বিক্রি করতে এবার বেগ পেতে হয়েছে কমিটিগুলোকে। পৌর এলাকার রাজারামপুরের জামাতের চামড়া বিক্রির দায়িত্বে থাকা আব্দুস সাত্তার জানান, কয়েক বছর আগে যেখানে একাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী আসতো চামড়া ক্রয় করতে, সেখানে এবার অনেক অনুরোধ করেই বাকিতে বিক্রি করতে হয়েছে। গরুর চামড়া মাত্র ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি পাশাপাশি খাসির চামড়া মাত্র ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দীন জানান, ট্যানারী মালিকদের কাছে চামড়া পাঠালে তারা টাকা পাঠান না। আর ঢাকায় চামড়া না কিনাই স্থানীয়ভাবে চামড়া ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না।। ফলে কম দামে তারা চামড়া ক্রয় করেছেন।