চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেঁয়াজ চাষ করে হতাশ চাষিরা || বিঘাপ্রতি লোকসান ৫ হাজারের বেশি

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ


প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন হ্রাস ও কাঙ্খিত দাম না পেয়ে এ বছর পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা। বিঘাপ্রতি এ লোকসান পাঁচ হাজারের বেশি বলে জানায় চাষিরা। এর ফলে পেঁয়াজ চাষ করে হতাশ হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে পানির দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘায় ৫ হাজার টাকারও বেশি করে লোকসান গুণেছেন তারা। ভারত থেকে ব্যাপকহারে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এদিকে গত দুইবছর ধরে পেঁয়াজ চাষে লোকসান হওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ উপজেলায় পেঁয়াজ চাষ হয়েছে দুই হাজার ৬৩০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৪০ হেক্টর কম। কিন্তু এবার ঘন কুয়াশার কারণে অধিকাংশ জায়গায় পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। এর সঙ্গে বাজারে পানির দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাইকারি বাজারে বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আবদুস সালাম জানান, প্রতিবিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে খরচ পড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু ভালো দাম না পাওয়ায় বেশিরভাগ কৃষকেরই এবার লোকসান হয়েছে।
একই গ্রামের পেঁয়াজ চাষি মোস্তফা জানান, তিনি এবার দেড়বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রতি বিঘায় মাত্র ৩০ মণ করে ফলন পেয়েছেন। এরপর বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় বিঘায় ৫ হাজার টাকা করে লোকসান হয়েছে তার।
সুন্দরপুর ইউনিয়নের রোডপাড়ার কৃষক সাদিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে বিপুল পরিমান পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় এ বছর বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম অনেক কম। মাত্র ৪৫০ থেকে ৫শ টাকা মণ দরে তারা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এতে করে তাদের উৎপাদন খরচও উঠছে না। তিনি জানান তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে তাকে প্রায় ২০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে।
তবে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়ার কথা অস্বীকার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জরুল হুদা। তিনি জানান, উৎপাদন ঠিকই হয়েছে। কিন্তু ভারত থেকে কমদামে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের ভালো দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে করেই তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে মনে করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ