চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিমা শোভা পাচ্ছে ১৪৬টি মন্ডপে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসব। রঙের মাধ্যমে দেবী দূর্গার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছে মৃৎশিল্পীর দক্ষ কারিগররা। আর শিল্পীর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় ইতোমধ্যে একেকটি প্রতিমা প্রাণবন্ত সেজে উঠেছে আপন ঐশ্বর্যে। মাটির তৈরি শৈল্পিক কারুকার্যের অলঙ্কারে ফুটে উঠছে দেবী সৌন্দর্য। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মন্দিরে মন্দিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, সেইসাথে নানান রঙের প্যান্ডেল বানানোর কাজ শেষ।

শনিবার (১ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হবে সনাতন সম্প্রদায়ের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠিকতা। ২ অক্টোবর সপ্তমী, ৩ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ৪ অক্টোবর মহানবমী এবং ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে পূজা শেষ হবে। এবার দেবী গজে চড়ে আগমন ঘটবে এবং কৈলাশে ফিরবেন নৌকায়। এবার জেলার ৫টি উপজেলায় ১’শ ৪৬টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা শোভা পাবে এবং মন্ডপগুলো লাল, নীল, হলুদসহ বর্ণিল বাতিতে আলোকিত করার কাজ চলছে। ঢাক আর মন্ত্র ও শঙ্খধ্বনিতে বেজে উঠবে মন্ডপগুলো।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জেলা শহরের কয়েকটি পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, আয়োজকদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা শিল্পীর কল্পনায় দেবী দূর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রুপ দিতে মন্দিরে প্রতিমা রঙের কাজ শেষ। আর বেড়ে গেছে মন্ডপের আয়োজকদের ব্যস্ততা। সেইসাথে সাজসজ্জার কাজও শেষ পর্যায়ে। আর থেমে নেই আনন্দ, উৎসবের আমেজের কমতি নেই।

গুড়িপাড়া কালি মন্দিরে ঝংকার সংঘের আয়োজনে প্রতিমা তৈরির কাজ করা মৃৎশিল্পী আশিষ কুমার সিনহা বলেন, ২ সপ্তাহের বেশী সময় ধরে এ মন্ডপে প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করতে কাজ শেষ।

জেলা শহরের হুজরাপুর এলাকার গুড়িপাড়া কালি মন্দিরের সভাপতি অপূর্ব সরকার জানান, প্রতিমা সাজাতে কোনো কমতি রাখা হয়নি। পাশাপাশি মন্ডপগুলোও সাজানো হয়েছে। এবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, জেলার সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জে ৪১টি, গোমস্তাপুরে ২৯ টি, নাচোলে ১২টি ও ভোলাহাটে ৩টি মন্ডপে প্রতিমা শোভা পাবে। শেষ মুুহর্তে প্রতিমা শিল্পীরা রাতভর পরিশ্রম করেছেন। এবার জাঁকজমকভাবে শারদীয় দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ মুহুর্তে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সার্বক্ষনিক আনসারবাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপে তাদের স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি মন্ডপে সরকারি অনুদান হিসেবে ৫’শ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ