চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃদ্ধা রোকেয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন || মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩

আপডেট: June 17, 2020, 10:46 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতোসহ ৩ জনকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়াটিও উদ্ধার করা হয়েছে। জমিজমার দখল নিতেই এই হত্যাকাণ্ড বলে স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত মূলহোতা রোকেয়ার সৎ জামাই সেকান্দার আলী। এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে ৫০ হাজার টাকায় ৪ জন হত্যাকারীকে ভাড়া করা হয়। এদের মধ্যে বড় সাহেব ও বারোতেরো নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার এইচএম আবদুর রাকিব। এর আগে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সেকান্দার আলী।
পুলিশ সুপার ব্রিফিংয়ে জানান, গত ১৩ জুন সকালে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পূর্বটিকরা গ্রামের নিজ ঘর থেকে রোকেয়া বেগমের গলাকাটা ও বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এঘটনার পর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইনের নেতৃত্বে ক্লু-বিহীন এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (অপারেশন) মিন্টু রহমান। দলটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোকেয়ার সৎ মেয়ের জামাই পশ্চিম টিকরা গ্রামের মৃত লুথু মন্ডলের ছেলে সেকান্দার আলীকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রোকেয়া বেগমকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন সেকান্দার আলী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সেকান্দার জানায় তারা সম্পত্তির লোভে অপর চার জামাই সাড়ে ১২হাজার করে টাকা চাঁদা উঠিয়ে ৪ জন হত্যাকারীকে ভাড়া করে এবং হত্যাকারীদের সঙ্গে সেও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকারী গ্রুপের বড়সাহেব ও বারোতেরো নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সে আরো স্বীকার করে তিনি গত বছরের (২০১৯ সাল) ঠিক একই দিন অর্থাৎ ১২জুন রাতে শ^শুর শুকুরদিকে গলা টিপে হত্যার পর মরদেহ রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানো হয়েছিল।