চাঁপাইনবাবগঞ্জে মধ্য-নিম্নবিত্তের ভরসা টিসিবির পণ্য

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১, ৯:০০ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জে টিসিবি’র ভোগ্যপণ্য নায্যমূল্যে পেয়ে খুশি সাধারণ ক্রেতারা। জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন উপজেলায় সপ্তাহে ৬ দিন ভোক্তাদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করছে টিসিবি’র ডিলাররা। ১৮ লক্ষ অধ্যুষিত জেলায় মাত্র ৯ জন ডিলার দিয়ে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় টিসিবি’র পণ্যের চাহিদা থাকলেও নেই অফিস ও গোডাউন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দিলে সরকারের এ উদ্যোগ আরো সফল হবে উপকারভোগীরা জানান।
জানা গেছে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। এসব পণ্য বিক্রি চলবে রমজানের ইদ পর্যন্ত। খোলা ট্রাকে জেলার ৯ জন ডিলারের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে খোলা ট্রাকে চিনি, সোয়াবিন তেল, মসুর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। শনিবার থেকে খেজুর বিক্রি শুরু হবে, যা প্রতি কেজি ৮০ টাকা। প্রতি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং উপজেলা পর্যায়ে এসব পণ্য সামগ্রী বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমে মূল্যে এসব পণ্য সামগ্রী বিক্রি করায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিদিনই তাদের ভিড় বাড়ছে। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মুজিববর্ষকে ঘিরে টিসিবি চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজ বিক্রি করেছে। এতে ব্যাপক সাড়া পড়ে। এ ছাড়া রমজানকে ঘিরে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। সরকারের এমন উদ্যোগ নিয়মিত রাখার দাবি জানান ভোক্তারা। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, সোয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১০০ টাকা, মসুর ডাল ও ছোলা প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে ভোক্তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে না। ভোক্তারা বলেন, জেলায় মানুষের আনুপাতিক হারের তুলনায় ডিলার সংখ্যা কম। এতে করে জেলায় আরো ডিলারের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে মানুষকে দীর্ঘসময় ধরে লাইনে থাকতে হবে না। ক্রেতা আজিজুল হক জানান, যদিও লাইনে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পণ্য ক্রয় করতে হয়। তবে, বাজার দরের চাইতে কম দরে টিসিবির পণ্য কিনতে পারা যাচ্ছে। সরকার এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখলে ভোক্তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে। মানুষের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এ জেলায় টিসিবি’র অফিস ও গোডাউন স্থাপন করা প্রয়োজন বলে অনেকেই মনে করছেন।
টিসিবি’র ডিলার এমদাদুল হক মিন্টু জানান, একজন ভোক্তা ২ কেজি চিনি, ২ লিটার তেল, ২ কেজি ছোলা, ১ কেজি খেজুর ও পেঁয়াজ ৩ কেজি করে ক্রয় করতে পারবেন। রাজশাহীর টিসিবি’র আঞ্চলিক প্রধান রবিউল মুর্শেদ জানান, রাজশাহীতে টিসিবি’র গোডাউনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ রয়েছে। এ জেলায় চাহিদার তুলনায় ডিলার কম থাকলেও পণ্যগুলো অন্য ডিলারের মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে। টিসিবি’র প্রধান দপ্তরে এ জেলায় ডিলার নিয়োগের আবেদন অনেকেই করেছেন, পেলে চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে।