চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসকলাইয়ের ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা কৃষক

আপডেট: ডিসেম্বর ১৬, ২০১৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ


চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্থকারী ফসল মাসকলাইয়ের আবাদে এবার ভয়াবহ ফলন বিপর্যয় হয়েছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে মাসকলাইয়ের খেতে ফলন নেই। কোথাও কোথাও ফলন হলেও তা অন্যবারের চেয়ে অনেক কম। অনেকেই মাঠের কলাই কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙন কবলিত চরাঞ্চলের হাজারো কৃষক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৬ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মাসকলাইয়ের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ আবাদ হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙন কবলিত ছয়টি ইউনিয়নে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, মাসকলাই চাষে সেচ না লাগায় চরাঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকারী ফসল হচ্ছে মাসকলাই। কিন্তু এবার পুরো জেলাতেই মাসকলাইয়ের খেতে ফলন বিপর্যয় হয়েছে। সদর উপজেলার নারায়নপুর, আলাতুলি, সুন্দরপুর, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের অনেক মাঠে এবার মাসকলাইয়ের ফলন প্রায় শূন্যের কোটায়। এজন্য এসব মাঠে কলাই কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন কৃষকরা। মাঠের কলাই কেটে শ্রমিকের মজুরি খরচও উঠছেনা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙন কবলিত চরাঞ্চলের কৃষকরা।
সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সোনারদির চরের কৃষক সাইফুল ইসলাম কালু জানান, গতবছর এক বিঘা জমিতে আড়াইমণ থেকে ৩ মণ করে কলাই পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এবছর এক মণও হয় নি। কোন কোন মাঠে বিঘাতে ১০ কেজি আবার কোথাও ২০ কজি করে কলাই উৎপাদন হয়েছে। আবার অনেক মাঠে ফলন শূন্যের কোটায় থাকায় কৃষকরা মাঠের কলাই কাটছেন না। আর এতে করে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।
সুন্দরপুরের কৃষক তাইফুল ইসলাম জানান, মাসকলাই চাষে খরচ অন্য ফসলের চেয়ে অনেক কম। জমিতে শুধুমাত্র ২/১ টি চাষ দিয়ে মাসকলাইয়ের বীজ বুনে দিলেই কাজ শেষ। বপণ থেকে মাড়াই পর্যন্ত যা খরচ হয়, তার চেয়ে ৬/৭ গুণ লাভ হয়। এসব কারণেই কৃষকদের কাছে মাসকলাই চাষের আগ্রহ অনেক। কিন্তু এবার ফলনের যে অবস্থা তাতে খরচই উঠবে না। উজিরপুরের কৃষক মন্তাজ আলী জানান, পর্যাপ্ত পরিচর্যার পরও এবার ফল ধরে নি। কি কারণে ফলন বিপর্যয় তাও কৃষকরা বুঝতে পারছে না। তিনি আরো বলেন, মাসকলাইয়ের আয়ে তাদের অনেকের ৬ মাসের সংসার খরচ চলে। কিন্তু এবার উৎপাদন কম হওয়ায় সংসার চালানো খুব কষ্টকর হবে।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাজদার রহমান ফলন কম হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, গত অক্টোবর মাসে বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে। ওই বৃষ্টিতে কলাইয়ের গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভালো ফলন আসে নি।