চাঁপাইনবাবগঞ্জে শীতকালে পদ্মা নদীতে ভাঙন || ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা মানুষ

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০১৭, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ



চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গায় হঠাৎ করে শীতকালে পদ্মা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।  গত দুই সপ্তায় নদী ভাঙনে বাড়িঘর, ফসলী জমিসহ আমবাগান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন মন্ডল ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি, দেবীনগর, নারায়নপুর, সুন্দরপুর ও চরবাগডাঙ্গা এবং শিবগঞ্জের পাঁকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। আর এ নদী ভাঙনে এসব এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, ব্রিজ, কালভার্ট, বসতবাড়ি, আমবাগান ও ফসলী জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। কিন্তু বর্তমানে অসময়ে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি, মালবাগডাঙ্গা, রোডপাড়া ও কাইরাপাড়ার কিছু কিছু এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার পাড় থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফিট নীচে পানি থাকলেও গত ২ সপ্তা ধরে এই এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনকৃত এলাকায় পদ্মার পাড়ের মাটির স্তরের নীচে বালুর স্তর থাকায় বিশাল এলাকাজুড়ে ধ্বসের সৃষ্টি হচ্ছে। অসময়ে পদ্মা নদীর এই ভাঙনে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
কয়রাপাড়ার বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন জানান, বর্ষাকালে নদী ভাঙন দেখে অভ্যস্ত হয়েছি, কিন্তু শীতকালে নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়া খুব কমই দেখা যায়। একই এলাকার বৃদ্ধা আজেদা বেগম জানান, ইতোপূর্বে ভাঙনে ৩ দফা বাড়ি হারিয়ে তিনি এই এলাকায় অন্যের জমিতে টিনের চালা করে বসবাস করছিলেন। কিন্তু শীতকালের এই নদী ভাঙনে তার শেষ ঠাঁইটুকু গত ৫ দিন আগে পদ্মায় বিলিন হয়ে গেছে। এখন কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন দিন কাটাচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার।
নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১২ সালে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে বাঁধ নির্মাণ করলে ২০১৫ সালের বর্ষায় পানির তোড়ে এর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এখন গোয়ালডুবি থেকে প্রায় ২২শ মিটার এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় ২৫৪ কোটি ব্যয়ে নির্মিত পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প পুরোটায় পড়েছে হুমকির মুখে। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কারের জন্য পাউবো’র তত্বাবধানে কাজ চলছে। তবে গোয়ালডুবি থেকে বাঁধের আওতামুক্ত ২২শ মিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
চরবাগডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহীদ রানা টিপু জানান, পদ্মায় গত ১৫ দিন ধরে নতুনভাবে ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দেয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাড়িঘরসহ ফসলী জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন প্রতিরোধ করতে না পারলে হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বিজিবির বাখর আলী বিওপি, মালবাগডাঙ্গা, গোয়ালডুবি ও ফাটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবাগডাঙ্গা হাট, চরবাগডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয় জেলার মানচিত্র থেকে এই ইউনিয়ন হারিয়ে যাবার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন মন্ডল গত রোববার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, পদ্মার বুকে বিশাল চর পড়াসহ নদীর পাড়ে মাটির স্তরের নীচে বালুর স্তরের উচ্চতা বেশি হওয়ায় এ ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসের পরিমাণ কমে গেলে ভাঙনের পরিমাণ কমে আসবে। তিনি আরো জানান, গোয়ালডুবি থেকে প্রায় ২২শ মিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবণা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে এই এলাকার ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।