চাঁপাইনবাবগঞ্জে শীতের শুরুতেই পানিশূন্য পদ্মায় ধুধু বালুচর

আপডেট: ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ



শীতের শুরুতেই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই প্রধান নদী পদ্মা ও মহানন্দা। মরণবাঁধ ফারাক্কার কারণে নাব্যতা হারিয়েছে জেলার নদীগুলো। একসময়ের ভয়াল পদ্মায় এখন নেই পানি। এসব কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে দিন দিন কমছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর।
পদ্মা নদী তীরবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ও চরবাগডাঙ্গার অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাস থেকেই নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি কমতে শুরু করে। এখন শীতের শুরুতেই পদ্মা নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে জেগে উঠেছে বড় বড় বালুচর। অনেকটা দূরে পদ্মার ¯্রােতহীন পানিপ্রবাহ দেখা যায়।
সদর উপজেলার সুন্দরপুরের গ্রামের কৃষক আবদুল হান্নাহ জানান, গত কয়েক বছর ধরে পদ্মায় পানি সরবারহ একেবারেই কমে গেছে। বছরের ৬/৭ টা মাস পদ্মায় কোনো পানি থাকে না। চারিদিকে শুধু ধুধু বালুচর। বর্তমানে শীতের শুরুতেই বড় বড় চর পড়েছে। গ্রীষ্মকাল আসলে পদ্মায় আর পানিই থাকবে না। নারায়নপুরের অধিবাসী আলতাব আলী জানান, নদীতে পানি না থাকায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক ও জেলেরা। যুগযুগ ধরে বংশ পরস্পরায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী শতশত পরিবার একসময় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। অথচ এখন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে চলে গেছেন অন্য পেশায়। তিনি বলেন, এখন পদ্মায় মাছ আর তেমন পাওয়া যায় না। গভীর রাতে জেলেদের হই হুলে¬ার আর গানও শোনা যায় না।
চরবাগাঙ্গার বাখোরআলী গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, পূর্ব পুরুষদের কাছে শোনা পদ্মার ভয়াল রুপ আর এখন দেখা যায় না। নদীর উজানে ভারত বাঁধ দেয়ায় নদীর এমন করুণ রূপ বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, পানির অভাবে পাশে নদী থাকা সত্তেও তাদের জমিতে সেচ দেয়ার জন্য ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হচ্ছে।
পানি কমে যাওয়ার জন্য ভারতের ফারাক্কা বাঁধকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, ফারাক্কার বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় এসব এলাকায় ভূর্গস্থ পানির স্তর দিন দিন কমছে। শুস্ক মৌসূমে নলকুপেও পানি উঠে না। জমিগুলো উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলছে। ফলে ফলন দিন দিন কমছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁচেছে যে, বেশি করে সার ব্যবহার করেও ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন সেভ দ্যা ন্যাচারের সমন্বায়ক রবিউল হাসান ডলার বলেন, প্রতিটি নদ-নদীর উজানে ভারত বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় নদীগুলো পানিশূণ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসূমে উজান থেকে নেমে আসা পলির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের নদীগুলো হারিয়ে ফেলেছে নাব্যতা। এই অবস্থায় নাব্যতা ফিরিয়ে এনে জেলার নদ-নদীগুলোকে রক্ষায় দ্রুত নদী খনন কাজ শুরুর দাবি জানান তিনি।