চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলছাত্রী কণিকা হত্যা মামলায় বখাটে মালেকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস



চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে স্কুলছাত্রী কণিকা রানী ঘোষকে প্রকাশ্যে রাস্তায় কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বখাটে আবদুল মালেককে মৃত্যুদ- প্রদান করেছে আদালত। গতকাল বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়াউর রহমান এই রায় প্রদান করেন।
মত্যুদ-প্রাপ্ত আবদুল মালেক একই ইউনিয়নের বালুগাঁ দিয়াড় গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ ও নিহত কণিকার পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৭ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার দিয়াড় ধাইনগর গ্রামের লক্ষণ ঘোষের মেয়ে স্থানীয় মহিপুর এসএএম দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী কণিকা রানী ঘোষ তার তিন বান্ধবী তারিন আফরোজ, তানজিমা আক্তার ও মরিয়ম আক্তারকে নিয়ে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে মহিপুর ডিগ্রি কলেজের পিছনের সড়কে বখাটে আবদুল মালেক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই চার ছাত্রীকে কোপাতে থাকে। বখাটে মালেকের উপুর্যপরি হাসুয়ার আঘাতে কণিকাসহ তার তিন বান্ধবী তারিন, মরিয়ম ও তানজিমা গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কণিকা রানী ঘোষকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ওইদিনই নিহত কণিকার মা অঞ্জনা রানী ঘোষ বাদী হয়ে বখাটে মালেকের বিরদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রকাশ্য রাস্তায় দিনে-দুপুরে এই স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা সেসময় আলোড়ন তুলে দেশজুড়ে। হত্যাকারী মালেকের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি (সদর সার্কেল) ওয়ারেশ আলী মিয়া তদন্ত শেষে গত ৭ অক্টোবর বখাটে আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মাত্র ১৫ কার্যদিবসে ২১ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার সকালে একমাত্র আসামির উপস্থিতিতে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এসময় নিহত কণিকার মা অঞ্জনা রানী ঘোষ, ছোট বোন কাঞ্চনা রানী, ঘটনার দিন আহত কণিকার তিন বান্ধবী তারিন আফরোজ, তানজিমা আক্তার ও মরিয়ম আক্তারসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রায় ঘোষণা শুরু করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়াউর রহমান। এসময় বিচারক জিয়াউর রহমান বলেন, নৃশংস এই মামলার রায় মাত্র ১৫ কার্যদিবসে শেষ হয়েছে। আদালত কণিকাকে হত্যার জন্য ঘাতক আবদুল মালেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- এবং অপর তিন ছাত্রীকে হামলার জন্য ৩২৪ ধারায় ১০ বছর, ৩২৬ ধারায় ১৪ বছর এবং ৩০৭ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৫ মাসের সশ্রম কারাদ-ে দ-িত করেন। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়ে কণিকার স্বজনরা।
এদিকে আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও নিহত কণিকার পরিবারের সদস্যরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি জোবদুল হক বলেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই মামলাটি ছিল একটি চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনা। তাই দ্রুততম সময়ে মাত্র ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারায় আদালত আসামি মালেককে মৃত্যুদ- প্রদান করেছে।
নিহত কণিকার মা অঞ্জনা রানী ঘোষ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এতে তার মেয়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। তিনি এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া ঘটনার দিন আহত তিন স্কুল ছাত্রী তারিন আফরোজ, তানজিমা আক্তার ও মরিয়ম আক্তারও মামলায় রায়ে খুশি বলে জানিয়েছেন।